বৈরুতসহ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলার জেরে রবিবার (৭ জুন) রাতে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া ও সতর্কবার্তা হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
রবিবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১০টার দিকে এই হামলার সূত্রপাত হয়, যার ফলে ইসরায়েলজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নিশ্চিত করেছে যে, দক্ষিণ লেবাননের টায়ার ও নাবাতিয়া অঞ্চলে ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের জবাবে তারা ইসরায়েলের রামাট ডেভিড বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে তারা ইরান থেকে আসা সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পর হোম ফ্রন্ট কমান্ড সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত এলাকা থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়।
এই হামলাকে প্রাথমিকভাবে একটি 'সতর্কবার্তা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরান। আইআরজিসি এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল যদি এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি করে, তবে এর জবাব আরও ভয়াবহ হবে এবং এই অঞ্চলের সমস্ত মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু তাদের আওতায় আসবে। পাশাপাশি, ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে তেহরান সরাসরি শত্রুর সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হতে পিছপা হবে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে তিনি পাল্টা আক্রমণ না করার পরামর্শ দেবেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইরানের হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে। এই চুক্তি যেন ভেস্তে না যায়, সেজন্য তিনি উত্তেজনা প্রশমনের ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়াও, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে যে, ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাতে সমর্থন দেবে কি না, তা মোটেও নিশ্চিত নয়।
ডিবিসি/পিআরএএন