ইসরায়েলের ইসরায়েলি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) সদর দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রতিরক্ষা স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বুধবার (৪ মার্চ) গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
হিজবুল্লাহর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার ভোররাত ২টায় অধিকৃত ফিলিস্তিনের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এই অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির সদর দপ্তরে আক্রমণাত্মক ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। লেবাননের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
অ্যারোস্পেস সদর দফতরের পাশাপাশি উত্তর ইসরায়েলের একটি ‘ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ঘাঁটি’ লক্ষ্য করেও ‘নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র’ ছোড়ার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য ও উত্তর ইসরায়েলের একাধিক সামরিক স্থাপনা ও কমান্ড সেন্টার এখন হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে সাফেদ শহরের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নর্দার্ন কমান্ডের সদর দফতর ‘দাদো ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর ইসরায়েলের মেতুলা এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের একটি সমাবেশের ওপরও রকেট হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অঞ্চলটির পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে গত সোমবার (২ মার্চ) থেকে লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণ এবং এর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। হিজবুল্লাহর এই সাঁড়াশি অভিযানের বিপরীতে ইসরায়েলি বাহিনীও তাদের বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক এই হামলা-পাল্টা হামলায় লেবাননে অন্তত ৪০ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে বড় ধরনের স্থল অভিযানও শুরু করেছে, যা পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ডিবিসি/এএমটি