ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪’ এর আওতায় ৫৩তম পর্যায়ের এই জোরালো আক্রমণ চালানো হয়।
আইআরজিসি-র এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর টর্পেডো হামলায় ইরানি নৌবাহিনীর রণতরী ‘দেনা’ ধ্বংস হয়। উক্ত ঘটনায় শহীদ হওয়া ৮৪ জন নৌসেনার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রবিবারের এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে।
এবারের অভিযানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে তেহরান। জানা গেছে, ১০টি ‘ফাত্তাহ’ এবং ‘কদর’ নামক হাইপারসনিক মিসাইলের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শক্তিশালী ড্রোন এই হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে।
হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল: ইসরায়েলের আঞ্চলিক কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ ফ্রন্ট ম্যানেজমেন্ট সেন্টার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ‘আল-ধফরা’ বিমান ঘাঁটি (যেখান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছিল)।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনীসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিককে গুপ্তহত্যার মাধ্যমে হত্যার পর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরানও দফায় দফায় মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আক্রমণকারীরা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ এবং উপযুক্ত শাস্তি ভোগ না করা পর্যন্ত মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষাকারী কেন্দ্রগুলোর ওপর এই হামলা অব্যাহত থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: তাসনিম
ডিবিসি/এসএফএল