ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই ব্যক্তির নাম ওমিদ বেহজাদ এবং পুরিয়া সাফভাত। তাদেদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও গুপ্তচরবৃত্তির গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগ জানায়, গত বছরের ১৩ জুন ইসরায়েলি হামলা এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে শুরু হওয়া সংঘাতে এই দুই ব্যক্তি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তারা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিভিন্ন সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনার ছবি এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মোসাদের কাছে পাচার করেছিলেন।
গত ২৪ জুলাই পর্যন্ত টানা তেরো দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চলে। ওয়াশিংটন সরাসরি ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় এবং এর জবাবে তেহরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতের মতো আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।
এর আগে গত ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পারমাণবিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে অবাধ চলাচল সংক্রান্ত বিষয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় সেই সমঝোতা আলোচনা পুরোপুরি থমকে যায়।
এই কূটনৈতিক স্থবিরতা এবং সামরিক সংঘাতের পরিবেশের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কঠোর করার অংশ হিসেবে বিচার বিভাগের এই কড়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল ইরান। এর মাধ্যমে তেহরান সরকার বিদেশি গোয়েন্দাদের সহযোগিতাকারীদের প্রতি কোনো ধরনের নমনীয়তা প্রদর্শন না করার শক্ত বার্তা দিল।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন