ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম বিমানবন্দর বেন গুরিয়ন-এ বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। শনিবার (৪ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইরানি বাহিনী এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছে। তেহরান জানিয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক বিমান পরিচালনা ব্যবস্থা এবং কমান্ড সিস্টেম সম্পূর্ণ ব্যাহত করতেই এই সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে।
অভিযানের লক্ষ্যবস্তুসমূহ ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার ভোরে পরিচালিত এই ব্যাপকভিত্তিক ড্রোন হামলায় বিমানবন্দরের বেশ কিছু কৌশলগত স্থাপনাকে টার্গেট করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: নতুন কন্ট্রোল টাওয়ার (নিয়ন্ত্রণ কক্ষ), ১ ও ২ নম্বর টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার, নেভিগেশন (দিকনির্দেশক) সিস্টেম এবং বিমানবন্দরের এন্টেনা ও রাডার স্টেশনসমূহ।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল শত্রু পক্ষের কমান্ড ও কন্ট্রোল ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা এবং সামরিক বিমান চলাচলের সমন্বয় নষ্ট করা। বিশেষ করে ইসরায়েলি আক্রমণকারী যুদ্ধবিমানগুলোর পরিচালনা ব্যাহত করা এবং তাদের নজরদারি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জামগুলো অকেজো করার লক্ষ্যেই এই ড্রোনগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।
ইরানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য এই বিমানবন্দরটিকে ব্যবহার করে আসছিল। তারই প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এই সংঘাত শুরু হয়। ওই ঘটনার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় দফায় দফায় হামলা চালিয়ে আসছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের হুঁশিয়ারি বিবৃতিতে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়া অনিবার্য। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুদের যেকোনো অপরাধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন এবং আনুপাতিক জবাব দিতে প্রস্তুত। দখলদার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি ও মার্কিন অবস্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত থাকবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।
এই হামলার পর ওই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনও ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক কোনো বিবরণ পাওয়া যায়নি।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
ডিবিসি/এসএফএল