ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে সমঝোতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান।
ইসরায়েলের স্থানীয় গণমাধ্যম চ্যানেল-১২ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেড বহনকারী একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মধ্য ইসরায়েলের পেতাহতিকভা শহরে আঘাত হানে। এছাড়া 'টাইমস অব ইসরায়েল' জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বেশ কিছু টুকরো বা ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ায় অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। তবে এই হামলায় প্রাণহানির কোনো খবর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি।
এ সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক ফ্রন্টেও নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, আলোচনার উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটি এখন পুরোপুরি নিজেদের ‘প্রতিরক্ষা কৌশলের’ দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। যারা শুরুতে কূটনীতির পথে হাঁটার কথা বলেও পরবর্তীতে ইরানের যুক্তির সামনে নত হয়ে সামরিক পথ বেছে নিয়েছে, তাদের ওপর ‘চিরস্থায়ী লজ্জা’ নেমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, তেহরান সবসময় ‘মানবিক নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’। আরব দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বাঘাই বলেন, ইহুদিবাদী শাসন কোনো বিদ্বেষমূলক কাজ থেকে বিরত থাকে না; তারা যুদ্ধের পরিধি বাড়াতে, ইরানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং অন্য দেশে অপরাধ সংঘটনে সামান্যতম দ্বিধাবোধ করে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা একমাত্র শক্তি হলো ইরান।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/এএমটি