কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত সোমালিল্যান্ডে গোপনে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ফ্রান্সের সংবাদপত্র ল্য মন্ড-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে ঘাঁটি নির্মাণের এমন খবর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্মাণাধীন ঘাঁটিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা স্বার্থে ব্যবহার করা হবে।
ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে সোমালিল্যান্ডের অবস্থান বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করা এই অঞ্চলটির প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট 'বাব আল-মান্দাব' প্রণালির ঠিক পাশেই অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বারবেরা বন্দর। এই বিমানবন্দরটিকে কেন্দ্র করেই বর্তমানে গোপন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কাজ চলছে।
ল্য মন্ড-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও সোমালিল্যান্ডের মধ্যে সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মিশরসহ আরব ও মুসলিম বিশ্বের তীব্র বিরোধিতা ও প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডকে একটি স্বাধীন অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে দুই দেশের সামরিক ও গোয়েন্দা প্রতিনিধিদল নিয়মিত একে অপরের দেশ সফর করছে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।
এই গোপন সহযোগিতার অংশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডের সামরিক কর্মকর্তাদের তেল আবিবে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইসরায়েলি সামরিক ও প্রযুক্তিগত দলগুলো ইতিমধ্যে বারবেরা ঘাঁটির নির্মাণকাজ ও সার্বিক কার্যক্রম সশরীরে পরিদর্শন করেছে। আরব আমিরাতের অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় তৈরি হওয়া এই ঘাঁটিটি মূলত ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের দূরপাল্লার সামরিক ও গোয়েন্দা নজরদারির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে সরাসরি সামনে না এসে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই নৌপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের এই গোপন চেষ্টা আগামী দিনে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ডিবিসি/এসএস