ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কলিবফ মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন রুখে দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম দেশগুলোর নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্পদের ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সব দুর্ভাগ্যের মূল হচ্ছে ইহুদিবাদী ইসরায়েল।
আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত ইসলামি দেশগুলোর সংসদীয় ইউনিয়নের (পিইউআইসি) ২০তম অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং আজারবাইজানের পার্লামেন্ট স্পিকারের সাথে পৃথক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
তুর্কি স্পিকার নুমান কুরতুলমুসের সাথে বৈঠকে কলিবফ গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ৪০ দিনের রমজান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই যুদ্ধ থেকে মুসলিম বিশ্বের অনেক কিছু শেখার আছে। প্রথমত, এটা স্পষ্ট যে সব অনিষ্টের মূল হলো এই জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী। দ্বিতীয়ত, আমেরিকার যে বানোয়াট ক্ষমতা ও ফাঁপা অহংকার ছিল, তা এই যুদ্ধে ধসে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন ও বোমাবর্ষণের মাত্রা এতটাই অকল্পনীয় ছিল যা আধুনিক যুগের যেকোনো বড় যুদ্ধকে ছাড়িয়ে যায়। তবে ইরান এর তীব্র ও সুনির্দিষ্ট জবাব দিয়েছে এবং দেশটির জনগণ দীর্ঘ ১১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে থেকে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
এ সময় কলিবফ ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক-কে আমেরিকার পরাজয়ের দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার ফলে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
বৈঠকে তুর্কি স্পিকার নুমান কুরতুলমুস ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের আন্তর্জাতিক আইনের কোনো বৈধতা ছিল না। তিনি সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি শাহাদাত এবং মিনাব স্কুল হত্যাকাণ্ডে ১৬৮ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। কুরতুলমুস জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক ইরানের সরকার ও জনগণের পাশে আছে এবং গাজা ও লেবানন দখলের বিষয়টি কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া যাবে না।
অন্যদিকে, আজারবাইজানের স্পিকার সাহিবা গাফারোভার সাথে বৈঠকে কলিবফ বলেন, শত্রুরা ইরানের বিরুদ্ধে কিছু দেশের মাটি ও আকাশসীমা ব্যবহার করেছে। এই অভিজ্ঞতা সবার সামনে রয়েছে এবং এর থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।
জবাবে আজারবাইজানের স্পিকার প্রতিবেশী সুলভ সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আজারবাইজানের ভূখণ্ড কোনোভাবেই প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আমাদের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন যে, দুই দেশ সুসময় ও দুঃসময়-উভয় পরিস্থিতিতেই একে অপরের পাশে থাকবে।
গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের কিছু অবরুদ্ধ সম্পদ অবমুক্ত করা হলেও, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী চুক্তি লঙ্ঘন করে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। ফলে এই শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো সংশয় কাটেনি।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল