ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাদরামাউত প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এই হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো সরাসরি সৌদি আরবকে দায়ী করেছে।
শুক্রবার (২৬শে ডিসেম্বর) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক শান্ত থাকা ইয়েমেনে এই আকস্মিক বিমান হামলা নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, হামলার ঠিক এক দিন আগেই সৌদি আরব ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তাদের সদ্য দখলকৃত এলাকাগুলো ছেড়ে যাওয়ার জন্য কঠোর আহ্বান জানিয়েছিল। সেই আহ্বানের পরদিনই সৌদি বিমান বাহিনী ওই এলাকাগুলোতে অভিযান চালায়।
ঘটনাস্থল ও হতাহতের বিষয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাডেন ইন্ডিপেনডেন্ট’ জানিয়েছে, হাদরামাউতের ওয়াদি নাহব এলাকায় অবস্থিত ‘হাদরামি এলিট ফোর্সেস’-এর অবস্থান লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) নিশ্চিত করেছে যে, ওই অঞ্চলে অন্তত দুটি বিমান হামলা হয়েছে। হামলার পরপরই স্থানীয় একজন উপজাতীয় নেতার এলাকা ছেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হাদরামাউত ও মাহরা প্রদেশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রধান সমর্থক দেশ সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছিল। তবে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই অগ্রযাত্রা সরকারের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। যদিও ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দমনে সরকার ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এতদিন একজোট ছিল, সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এসটিসি বা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই অগ্রযাত্রা আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বিভাজনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যদি দেশটিতে পুনরায় পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।
২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে সরকার উৎখাত করার পর থেকেই ইয়েমেন সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং চরম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালের পর জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় সহিংসতা কিছুটা কমে এলেও সাম্প্রতিক সৌদি হামলা সেই স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
তথ্যসূত্র: এপি নিউজ।
ডিবিসি/এএমটি