আন্তর্জাতিক, এশিয়া

ঈদুল ফিতরে বন্ধ থাকবে আল-আকসা মসজিদ, হবে না ঈদের নামাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং এর পরবর্তী সময়েও জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের এ পবিত্র স্থানটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জর্ডান-নিযুক্ত সংস্থা ইসলামিক ওয়াকফকে সম্প্রতি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে 'মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ' শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে চলতি মাসের শুরুতে ইসলামের অন্যতম পবিত্র এ স্থানটি বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে মসজিদটিতে শুক্রবারের জুমার নামাজ এবং রমজানের রাতের নামাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের মসজিদে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং ইসরায়েলি বাহিনীর বিপুল উপস্থিতি মোতায়েন করা হয়েছে। 

 

অবরোধের পর থেকে প্রতি শিফটে ওয়াকফের মাত্র ২৫ জন কর্মীকে বিশাল এই মসজিদ কমপ্লেক্সে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পাণ্ডুলিপি বিভাগের জন্য অতিরিক্ত একজন কর্মীর প্রবেশের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। উল্টো পুলিশ ওয়াকফকে হুমকি দিয়েছে, অতিরিক্ত কোনো কর্মীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রতিদিন মসজিদে অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি ওয়াকফ কর্মকর্তাদের সন্দেহ, ইসরায়েলি বাহিনী ডোম অফ দ্য রকসহ আল-আকসার প্রার্থনা কক্ষের ভেতরে ক্যামেরা স্থাপন করেছে, যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

 

মসজিদ বন্ধের পাশাপাশি পবিত্র আল-আকসা ও ফিলিস্তিনিদের পরিচালিত বাজারগুলো নিয়ে গঠিত পুরোনো শহরটিকেও প্রায় পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শুধুমাত্র স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় এলাকাটি এখন প্রায় জনশূন্য। 

 

রবিবার (১৫ মার্চ) পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতেও ইসরায়েল মসজিদে যাওয়ার পথ বন্ধ করতে শত শত পুলিশ মোতায়েন করে, যার ফলে সহিংসতার হুমকিতে থাকা মুসল্লিরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামাজ আদায় করেন।

 

আল-আকসা মসজিদের অধ্যাপক এবং জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ কাউন্সিলের সদস্য ড. মুস্তাফা আবু সোয়ে শহর অবরুদ্ধ করার এ ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে বলেন, দেয়ালের ভেতরে ও বাইরের জীবনযাত্রার এ অসঙ্গতি স্পষ্ট। তিনি আরও জানান, মানুষের নিরাপত্তা যদি সত্যিই উদ্বেগের কারণ হতো, তবে হাজার হাজার মুসল্লি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আল-আকসার ভূগর্ভস্থ নামাজ কক্ষে তাদের নিরাপদে আশ্রয় দেওয়া যেত। 

 

অন্যদিকে, ইসলামিক ওয়াকফের আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিচালক আউনি বাজবাজ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অস্থায়ী নিরাপত্তার অজুহাতে নেওয়া এসব পদক্ষেপ ধীরে ধীরে স্থায়ী বা আধা-স্থায়ী ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে।

 

কয়েক দশক ধরে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতাবস্থার অধীনে আল-আকসা পরিচালিত হয়ে আসছে, যা স্থানটির একচেটিয়া ইসলামী ধর্মীয় মর্যাদা সংরক্ষণ করে। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, মুসলিমদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে এবং ইহুদি উপস্থিতি বাড়ানোর মাধ্যমে এ ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। পূর্ব জেরুজালেমের ওপর ইসরায়েলের এ নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে বলা হয়েছে দখলদার শক্তির কোনো সার্বভৌমত্ব নেই এবং তারা স্থায়ী কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না। 

 

ইতিমধ্যে আটটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের মতে, রমজানের এ অবরোধ মূলত আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার ইসরায়েলি কৌশলেরই সর্বশেষ রূপ।

 

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন