ঈদের দিনে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শিমুল কাজী (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সংঘর্ষের ভয়াবহতা দেখে স্ট্রোক করে মারা গেছেন নিহতের দাদা নাজিম কাজী (৬৫)।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ছত্রপাড়া গ্রামে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত দুটি পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিমুল কাজী ওই গ্রামের লাবু হোসেনের ছেলে এবং নাজিম কাজী একই গ্রামের মৃত ইংরেজ আলী কাজির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছত্রপাড়া গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি সেকেন্দার আলীর ছেলে হৃদয় হোসেন ঢাকায় অবস্থানকালে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিলে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দানা বাঁধে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে হৃদয়ের সঙ্গে সাহাবুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহর কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরবর্তীতে এ বিবাদ স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তারকারী হান্নান-কুবির গ্রুপ ও লাল খাঁ-জাহাঙ্গীর গ্রুপের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষে কুবির কাজী ও শিমুল কাজী গুরুতর আহত হন। নাতিসহ অন্যদের রক্তাক্ত হতে দেখে ঘটনাস্থলেই স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বৃদ্ধ নাজিম কাজী।
অন্যদিকে, গুরুতর আহত কুবির ও শিমুলকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান শিমুল কাজী।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিবিসি/এএমটি