বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

ঈদ যাত্রা: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার তীব্র যানজট

গাজীপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের প্রায় ৪০ কিলোমিটার অংশ জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যার পর থেকেই এই রুটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বিপুল পরিমাণে বাড়তে থাকে। এতে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোহনী পেরিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর বাইপাস পর্যন্ত হাজার হাজার ঘরমুখী মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই মহাসড়কে এই যানজটের চিত্র দেখা গেছে। গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে চন্দ্রা বাস স্টেশন এলাকা পর্যন্ত প্রথমে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীরে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে এই যানজটের ব্যাপ্তি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাকসহ ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহন রাজধানী ঢাকা, সাভার ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে রওনা দেয়। এতে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চন্দ্রা ত্রিমোহনী এলাকায় তীব্র জটলার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সেখানকার যানজট ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত পৌঁছে যায়। চন্দ্রার পর থেকে উত্তরবঙ্গের দিকেও যানজট ক্রমশ বাড়ছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থেকে চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।


গাজীপুর থেকে বগুড়াগামী একতা পরিবহনের যাত্রী সামির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যানজটের কথা আর কী বলব! সন্ধ্যা ৬টায় গাজীপুর থেকে বাসে উঠে রাত সাড়ে ৯টায় চন্দ্রা পৌঁছালাম। বাকি পথ যেতে আরও কত ঘণ্টা লাগবে তা বলা মুশকিল।


উত্তরা থেকে ছেড়ে আসা সোহান ট্রাভেলসের চালক মুজাহিদ মিয়া বলেন, বিকেলে রওনা দিয়ে এইমাত্র চন্দ্রা পৌঁছালাম। যানজটের কারণে বিভিন্ন জায়গায় ইঞ্জিন বন্ধ করে বসে থাকতে হয়েছে। যানজট না থাকলে আমাদের খরচও কমে, যাত্রীদের ভোগান্তিও কম হয়।


এদিকে টাঙ্গাইল অংশে দিনভর মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ এলাকা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত কোনো যানজট ছিল না। যাত্রীবাহী বাসসহ সব ধরনের যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করেছে। তবে রাত ৯টার পর থেকে কালিয়াকৈরের চাপ এসে মির্জাপুর অংশে যানজট সৃষ্টি করে। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা পর্যন্তও যানবাহনের ধীরগতি ও জটলা লক্ষ্য করা গেছে।


এর আগে, শিল্পনগরী গাজীপুরে মঙ্গলবার সকালে পোশাক ও অন্যান্য শিল্পকারখানা ছুটি হওয়ার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় যানবাহন ও যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়। এর মধ্যে দুপুর নাগাদ দুই ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে পড়েন ঘরমুখী মানুষ। বৃষ্টির পর একযোগে লাখেরও বেশি যাত্রী সড়কে অবস্থান নিলে তীব্র যানবাহন সংকট দেখা দেয়। কাঙ্ক্ষিত পরিবহন না পেয়ে দিশেহারা হয়ে অনেক যাত্রীকে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।


চন্দ্রা ত্রিমোহনী এলাকায় ইতিহাস পরিবহনের চালক সুমন বলেন, এক ঘণ্টায় মাত্র এক কিলোমিটার পথ আসতে পেরেছি। চন্দ্রা এলাকাটা পার হতে পারলে বাঁচি। গরমে ও যানজটে বাসে বসে থেকে অনেক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।


সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ বলেন, শেষ মুহূর্তে মানুষ ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে পরিস্থিতি কিছুটা বেসামাল হয়ে পড়েছে। তবে সকাল থেকেই মহাসড়কে পুলিশ সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। গাজীপুর এলাকা থেকেই অন্তত ২০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। এছাড়া নিয়মিত কয়েকশত দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি অন্যান্য পরিবহনের চাপ তো রয়েছেই। চাপ সামলাতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন