কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের গুলিতে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী 'এআরও' (AERO) বা 'হালিম বাহিনীর' প্রধান কেফায়েত উল্লাহ হালিম (৪০) নিহত হয়েছেন। এ সময় তাঁর আরও দুই সহযোগী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উখিয়া উপজেলার ৭ ও ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংযোগ ব্রিজ এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত কেফায়েত উল্লাহ হালিম উখিয়ার বালুখালী সংলগ্ন ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এফ-২ ব্লকের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে। তিনি ক্যাম্পে ‘হালিম গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিতেন। হামলায় গুলিবিদ্ধরা হলেন-একই ক্যাম্পের এ-৪ ব্লকের তোফায়েল আহমদের ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) এবং জি-ব্লকের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ (৩৫)।
৮ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সন্ধ্যায় কেফায়েত উল্লাহ হালিমসহ তিনজন একটি মোটরসাইকেলে করে নিজ নিজ শেডের দিকে ফিরছিলেন। উখিয়া ক্যাম্প-৮/ইস্ট এলাকা পার হয়ে ৭ ও ৮ নম্বর ক্যাম্পের সংযোগ ব্রিজে পৌঁছালে ওতপেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুতুপালংস্থ এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হালিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য দুজনকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এডিআইজি সিরাজ আমিন আরও জানান, খবর পেয়ে এপিবিএন পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘আরসা’র (ARSA) সদস্যরা এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আধিপত্য বিস্তার নাকি অন্য কোনো কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে ক্যাম্পে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ডিবিসি/পিআরএএন