আন্তর্জাতিক, অন্যান্য

উগান্ডায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ২০০০ বিরোধী দলীয় সমর্থক আটক, নিহত ৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর সহিংস পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের প্রায় ২ হাজার সমর্থককে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযানে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল মুহোজি কাইনেরুগাবা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, এই বিতর্কিত নির্বাচনে সেনাপ্রধানের বাবা এবং গত চার দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা ৮১ বছর বয়সী ইয়োয়েরি মুসেভেনি সপ্তমবারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়ী হয়েছেন।

 

১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের সময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল। নির্বাচনে মুসেভেনি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, ‘ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্ম’ (এনইউপি) দলের নেতা ও সাবেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ববি ওয়াইনকে (রবার্ট কিয়াগুলানিই) বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন বলে ঘোষণা করা হয়। তবে ববি ওয়াইন এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ব্যালট বাক্সে কারচুপি ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এবং বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) রাতভর দেওয়া একাধিক পোস্টে সেনাপ্রধান মুহোজি কাইনেরুগাবা এনইউপি সমর্থকদের ‘দুষ্কৃতকারী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি লেখেন, এ পর্যন্ত আমরা ৩০ জন এনইউপি সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছি। তবে এই মৃত্যুর পরিস্থিতি বা কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি। অপর একটি পোস্টে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এনইউপি সন্ত্রাসী নেতাদের অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছে, তবে আমরা তাদের সবাইকেই খুঁজে বের করে ধরব।

 

সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের সময় সহিংসতার জন্য ববি ওয়াইনের সমর্থকদের দায়ী করা হলেও, বিরোধী দলের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীই তাদের সদস্যদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ববি ওয়াইন অভিযোগ করেছেন, গত কয়েক মাসে তার শত শত সমর্থককে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ভয়ভীতি প্রদর্শন করা।

 

এদিকে উগান্ডার নির্বাচন-পরবর্তী এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) গভীর রাতে তার মুখপাত্র স্টেফান দ্যুজারিক জানান, মহাসচিব সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আইনের শাসন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

 

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন