বাংলাদেশ, জাতীয়, রাজধানী

উচ্চাকাঙ্ক্ষা দিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট

ডিবিসি নিউজ ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

সোমবার ১৮ই মে ২০২৬ ০৬:২৪:০৪ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ মনে করে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট শুরু হচ্ছে উচ্চাকাঙ্ক্ষা দিয়ে। সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা বিষয়ক প্রাক-বাজেট আলোচনায় এমন মন্তব্য করা হয়।

সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টা থেকে চলা এই সংলাপে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য, উন্নয়নকর্মী ও বিভিন্ন খাতের অংশীজনরা অংশ নেন। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি'র অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।

 

 প্রবন্ধে বলা হয়, আসছে বাজেটে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে। ঘাটতি মেটাতে এ বছর আরও নির্ভরতা বাড়ছে বিদেশি ঋণে। গবেষকরা বলেন, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্য ধরা হচ্ছে- তাও বাস্তবসম্মত নয়। বাজেট মেটাতে সরকারের আয় বাড়ানোর পরামর্শ দেন গবেষকরা।

 

এজন্য ব্যক্তি খাতের করের আওতা বাড়ানো এবং নানা খাতে দেওয়া কর অব্যাহতি বাতিলের পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়াও আসছে বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে যেসব পরিবার ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের আওতার বাইরে রয়ে গেছে, তাদের যাচাই-বাছাই করে দ্রুত এ সুবিধার আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।

 

প্রবন্ধে বাংলাদেশের বাজেট ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা, রাজস্ব সংগ্রহের সীমাবদ্ধতা, ভর্তুকির চাপ, ঋণঝুঁকি, কর অব্যাহতির বিস্তার এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরেন বিশ্লেষকরা।

 

আলোচনায় উঠে আসে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে, যা অর্জনে প্রবৃদ্ধি দরকার হবে অন্তত ৪২ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরেই রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

গবেষণাপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখন মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়েও কম। একই সঙ্গে কর অব্যাহতি ও কর ছাড়ের মাধ্যমে সরকার যে রাজস্ব হারাচ্ছে, তার পরিমাণ প্রায় আদায়কৃত রাজস্বের সমান।

 

বিশ্লেষকরা বলেন, সরকার যদি কর অব্যাহতির সংস্কার না করে, তাহলে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ- কোনোটিই টেকসইভাবে সম্ভব হবে না।

 

আলোচনায় নবম পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।

 

গবেষকরা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত হলেও এটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে উন্নয়ন বাজেট, ভর্তুকি কিংবা সামাজিক সুরক্ষা খাতে চাপ তৈরি হতে পারে।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন