রাজধানীর উত্তরাতেই সক্রিয় ১০ থেকে ১২টি কিশোর গ্যাং। প্রতিটির সদস্য সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ জন। প্রতিটি গ্যাংয়ের রয়েছে এলাকাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ।
খুনসহ নানান মামলার আসামি একেকজন গ্যাং লিডার। চুরি, ছিনতাই, মারামারি, মাদক ব্যবসা এমনকি খুন করতেও পিছপা হয়না না এসব কিশোর।
২৭শে আগস্ট রাত ৮টা। রাজধানীর উত্তরখানের খ্রিষ্টানপাড়া এলাকায় রিকশার চাকা থেকে পানির ছিটা লাগার মত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যার শিকার হয় সোহাগ নামের এক কিশোর।
উত্তরা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এমন খুনের ঘটনা নতুন নয়। এই ঘটনায় ডিবির বিমানবন্দর জোনাল টিম সাদ আল রাফী ও নাজমুল হুদা ওরফে নাদিম নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। আরো তদন্ত করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হওয়া মামলায় পলাতক আসামি শাকিল, সুমন, শাওন ও ছোটনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উত্তরা এলাকার বিভিন্ন সেক্টর দাপিয়ে বেড়ানো ১০ থেকে ১২টি কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য পায় পুলিশ। এসব গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে দেড় ডজনের বেশি নেতা।
গ্রেপ্তার হওয়ারা জানায়, একসময় একসাথে ঘোরাফেরা, অন্য গ্রুপের একজনের সাথে আরেকজনের লাগাবাধা। কথা কাটাকাটি কিংবা মারামারি- এভাবেই গড়ে ওঠে গ্যাং।
উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের সেভেন স্টার গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে জয় ও শাকিল। শাকিলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় রয়েছে ৭টি মামলা।
আজমুপরের কাঁচাবাজার এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে বিগবস গ্রুপের বড় ছোটন। হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে মামলা ১১টি।
গ্যাং লিডার নাজমুল হুদা ওরফে নাদিম। তার নামে প্রথম মামলা হয় গতবছর। এক বছরের ব্যবধানে তার বিরুদ্ধে এখন হত্যাসহ মামলার সংখ্যা ৬টি।
গ্রিল শাওনের নামে প্রথম মামলা হয় ২০১৬ সালে। তার নামে এখন মামলা ৭টি।
বড়বাগ এলাকার পিকে গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ কাওছারের হাতে। আজমপুরের চাপাতি সুমন গ্রুপের নিয়ন্ত্রক সুমন। শুভ নিয়ন্ত্রণ করে ফার্স্ট হিটার বয়েজ। উত্তরার পাকুরিয়া এলাকার নাইন স্টার গ্রপের নেতৃত্বে রয়েছে তালা-চাবি রাজু। ১৪নং সেক্টরের ডিসকো বয়েজের নেতা সেতু। আব্দুল্লাহপুর এলাকায় শিকদার গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে মৃদুল ও একন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কায়সার রিজভী কোরায়েশী বলেন, "তাদের বয়স যখন ১৬, ১৭, ১৮ তখন থেকেই তারা মামলা খেয়ে আসছে। এখন তাদের বয়স ২০,২১,২২। এমন আসামি রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মামলা রয়েছে।"
সামাজিক ও পারিবারিক অবক্ষয়কে কিশোর গ্যাংয়ের জন্য দায়ী করছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দার উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী শফিকুল ইসলাম
বলেন, "পারিবারিকভাবে ও সামাজিকভাবে সচেতন হতে হবে। আমরা যারা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কাজ করি তাদের উচিত হবে কিশোরদের ভাল কাজে মোটিভেট করা। ওদের অপরাধি হিসেবে না দেখে আপন হিসেবে দেখে, কোথায় সমস্যা এগুলো খুঁজে বের করতে হবে।"
কিশোর বয়সে অপরাধে হাত পাকানো এরাই একসময় বড় অপরাধী হয়ে উঠতে পারে আশংকা পুলিশের।