আন্তর্জাতিক

উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বন্দোবস্ত এগোচ্ছে: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার হুমকির মধ্যেই আলোচনার পথে অগ্রগতির কথা জানিয়েছে ইরান। তেহরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবহর ইতিমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারি জানি বলেন, সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধের যে কৃত্রিম আবহ তৈরি করা হচ্ছে, তার বিপরীতে গিয়ে আলোচনার কাঠামোগত প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোতে বৈঠকের একদিন পরই তিনি এ কথা জানান। উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানিও তেহরানে লারি জানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

 

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। আমরা দেখছি কিছু করা যায় কি না। তবে আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে কী হবে তা আমরা দেখব। আমাদের বিশাল এক নৌবহর সেদিকে রওনা হয়েছে।’ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে তেহরানের কঠোর দমনের জেরে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিল এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে।

 

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে এক ফোনালাপে বলেন, বৃহত্তর সংঘাত ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। তিনি বলেন, ‘ইরান কখনোই যুদ্ধ চায়নি এবং চায় না। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যুদ্ধ ইরান, যুক্তরাষ্ট্র বা এই অঞ্চলের কারও স্বার্থেই আসবে না।’

 

তবে মার্কিন হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেন, তাঁর বাহিনী পূর্ণ প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে আছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘শত্রু যদি কোনো ভুল করে, তবে নিঃসন্দেহে তারা নিজেদের এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা ধ্বংস করা সম্ভব নয়।

 

ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরবর্তীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এতে ৬,৫৬৩ জন নিহত হয়েছেন, যদিও সরকারি হিসেবে এই সংখ্যা ৩,১১৭। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় আসবে বলে ধারণা করছেন ট্রাম্প। তবে তেহরান সাফ জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আলোচনার টেবিলে থাকবে না।

 

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন