আন্তর্জাতিক, আরব

উদীয়মান আঞ্চলিক জোটের কেন্দ্রে থাকবে ইরান ও চীন: গালিবফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরান চীনের একটি পূর্ণাঙ্গ অংশীদার। একই সঙ্গে যেকোনো নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনে দুই দেশই মূল চালিকাশক্তি বা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

চীন বিষয়ক ইরানের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা গালিবফ তেহরানে ইরান চেম্বার অব কমার্স-এর সাথে এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি অঞ্চলজুড়ে এবং অঞ্চলের বাইরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।


গালিবফ বলেন, চীন আমাদের জন্য একটি অনন্য দেশ। আমাদের কাজের ধারা এবং দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে চীনা পক্ষের মনে এই বিশ্বাস তৈরি করতে হবে যে, ইরান কেবল তাদের একজন ক্রেতা বা গ্রাহক নয়; বরং চীনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ, নির্ভরযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী অংশীদার।


ভবিষ্যতে নতুন আন্তর্জাতিক জোট ও ব্লক গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, আমাদের জোট গঠন করা প্রয়োজন। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, এই ধরনের জোট অবশ্যই গঠন করতে হবে এবং ইতিমধ্যে তা কিছুটা গঠিতও হয়েছে।


তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান যে, যেকোনো নতুন জোটে চীন ও ইরান অপরিহার্য সদস্য হিসেবে থাকবে। তার ভাষায়, আগামীতে যে জোটই আত্মপ্রকাশ করুক না কেন, সব ক্ষেত্রে দুটি দেশের অবস্থান নিশ্চিত এবং অপরিবর্তনীয়; আর তারা হলো চীন ও ইরান।


এদিকে চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, বেইজিং ইরানের রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তেহরান যখন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে, তখন চীনের এই ভূমিকা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।


পার্লামেন্ট স্পিকার কলিবফ প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক-সব ক্ষেত্রে এই লক্ষ্য অর্জনে পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, উত্তেজনা পরিহার করে সম্পূর্ণ যুক্তি, মর্যাদা ও কর্তৃত্ব বজায় রেখে আমাদের এই পথ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই সুযোগ আমাদের সামনে রয়েছে।


বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে গালিবফ লিখেন, চীনের সাথে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি উইন-উইন বা উভয়ের জন্য লাভজনক সহযোগিতা বজায় রাখতে ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।


তিনি আরও যোগ করেন, ইরান চেম্বার অব কমার্সের বৈঠকে আমি জোর দিয়ে বলেছি: গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ-এর আওতায় আমাদের কৌশলগত ঐক্যকে আমরা বাস্তব ফলাফলে রূপান্তর করতে সংকল্পবদ্ধ।


যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ২০২২ সালের মার্চ মাসে ইরান ও চীন একটি ঐতিহাসিক ২৫ বছর মেয়াদী দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তিটি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরান ও বেইজিংয়ের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার একটি আনুষ্ঠানিক রূপরেখা, যা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।


সূত্র: প্রেস টিভি
 

ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন