জেলার সংবাদ

উদ্বোধনের আগেই ঝুঁকিতে মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের ৬ তলা ভবন

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ

ডিবিসি নিউজ

বুধবার ২৯শে জুলাই ২০২৬ ০৮:৩৫:১৯ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

প্রায় ৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের নতুন ৬ তলা একাডেমিক ভবনটি উদ্বোধনের আগেই ঝুঁকিতে পড়েছে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে ভবনের সামনের সড়কের দুই পাশের মাটি ধসে গিয়ে রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া মূল ভবনের আশপাশের বিভিন্ন স্থানেও মাটি সরে গিয়ে ধসের সৃষ্টি হওয়ায় এর নির্মাণমান ও স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কলেজসমূহের বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এই ভবনটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিতা এন্টারপ্রাইজ। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর কাজ শুরুর কার্যাদেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি ভবনটি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও লিফট ও জেনারেটর স্থাপনের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে নতুন এই ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের সামনের সড়কের দুই পাশের মাটি ধসে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। মূল ভবনের পাশের মাটিও কয়েক জায়গায় দেবে গেছে এবং বৃষ্টির পানি জমে মাটির ক্ষয় আরও বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এভাবে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ভবনের ভিত্তি ও আশপাশের অবকাঠামো আরও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে এবং শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার কারণে যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার আগে নির্মাণমান ও মাটির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার কথা থাকলেও, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যথাযথ তদারকির অভাবে এসব ত্রুটি ধরা পড়েনি।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই যদি এমন ধস নামে, তবে দীর্ঘমেয়াদে ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

 

সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর তুহিন সুলতানা জানান, বেশ কয়েকবার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়। পরে আজ বুধবার পত্রের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তাদেরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিতা এন্টারপ্রাইজের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

তবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইশতিয়াক ইকবাল হিমেল বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। তদন্তে নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন

আরও পড়ুন