দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও নানামুখী সমীকরণের অবসান ঘটিয়ে সারাদেশে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বিষয়ক ঐতিহাসিক গণভোটের ভোটগ্রহণ।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় দেশের ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল সর্বত্রই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দুটি ভিন্ন রঙের ব্যালট পেপারে তাদের রায় দিচ্ছেন সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ‘জুলাই সনদ’ বিষয়ক গণভোটের জন্য গোলাপি ব্যালট ব্যবহৃত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিগত তিনটি নির্বাচনের বিতর্কিত অধ্যায় পেরিয়ে এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব এবং প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ভবিষ্যৎ।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ১৯ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত থাকায় অবশিষ্ট ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার।
সারাদেশে স্থাপিত ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় সাড়ে পাঁচশ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক ভোট পর্যবেক্ষণ করছেন।
ডিবিসি/এএমটি