আন্তর্জাতিক

এআইয়ের পরামর্শ মেনে ২৫ একর জমির ফসল নষ্ট করলেন চীনা কৃষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

চীনের আনহুই প্রদেশের চুঝৌ এলাকার ৬৭ বছর বয়সী এক কৃষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিত্তিক একটি অ্যাপের দেওয়া পরামর্শ মেনে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ মু (চীনে ব্যবহৃত একটি প্রচলিত ভূমির পরিমাপের একক) বা ২৫ একর জমির তিলের চারা হারিয়েছেন। প্রায় এক বছর ধরে কৃষিবিষয়ক নানা কাজে অ্যাপটি সফলভাবে ব্যবহারের পর এর ওপর তার অন্ধবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আগাছা ও কীটনাশক ব্যবহারের একটি ভুল নির্দেশনায় তার বিস্তৃত জমির তিল চারা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

শুরুতে এআই প্রযুক্তির ওপর কিছুটা সংশয় থাকলেও ক্রমাগত ফলপ্রসূ উত্তর পাওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে অ্যাপটির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ফলে সাম্প্রতিক নির্দেশনার ক্ষেত্রে তিনি কোনো কৃষি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করেননি কিংবা তথ্যের সত্যতা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করেননি।

 

ক্ষেতের আগাছা ও পোকামাকড় দমনের জন্য ওই চীনা কৃষক অ্যাপটির শরণাপন্ন হলে সেটি বিশেষ কিছু রাসায়নিক মিশ্রণের পরামর্শ দেয়। সেই অনুযায়ী তিনি জমিতে আগাছানাশক হিসেবে 'হাই-এফিসিয়েন্সি ফ্লুপাইরিমেথালিন' এবং 'ফ্লুসালফাসালফা ইথার' ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যান্য কীটনাশক প্রয়োগ করেন।

 

প্রযুক্তির বাতলে দেওয়া নিয়মে জমিতে রাসায়নিক ছিটানোর পরের দিনই মারাত্মক বিপর্যয় ঘটে। আগাছার পাশাপাশি ক্ষেতের সব তিল গাছ দ্রুত মরতে শুরু করে। ওই চীনা কৃষক জানান, স্প্রে করার পরদিনই চারাগুলো মরে যায় এবং আগাছার চেয়ে ফসলের চারা দ্রুত বিনষ্ট হয়।

 

ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তিনি কারণ জানতে পুনরায় অ্যাপটির সাহায্য নেন। তখন এআই বিশ্লেষণ করে জানায়, ব্যবহৃত 'ফ্লুসালফাসালফা ইথার' মূলত সয়াবিন ক্ষেতের চওড়া পাতার আগাছা দমনে ব্যবহৃত হয়। তিলগাছও চওড়া পাতার হওয়ায় এবং পুরো জমিতে নির্বিচারে ছিটানোর কারণে ফসল ধ্বংস হয়েছে।

 

কৃষকের দাবি ছিল, সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে অ্যাপটি আগে থেকে কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি। তবে চ্যাট ইন্টারফেসে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, এআইয়ের উত্তর ভুল হতে পারে এবং তা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই সহায়ক হতে পারে কিন্তু চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ নয়। বিশেষ করে কৃষি ও রাসায়নিকের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে বাস্তব জীবনে প্রয়োগের আগে যেকোনো পরামর্শ বিশেষজ্ঞ দিয়ে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

 

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন

আরও পড়ুন