বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা চলতি বছর আবারও বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের চাপ সামলাতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই কোম্পানিটি এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২০ মে থেকে প্রথম দফার ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এ দফায় মেটার মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ বা প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে চাকরি হারাতে হবে। এছাড়া বছরের দ্বিতীয়ভাগেও আরও কয়েক দফায় কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ প্রতিষ্ঠানটিকে একটি এআই-নির্ভর শক্তিশালী কোম্পানিতে রূপান্তর করতে চাইছেন। এ জন্য তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের ঘোষণাও দিয়েছেন। এই রূপান্তরের অংশ হিসেবেই মেটা এখন কম কর্মী দিয়ে বেশি কাজ তুলে নেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে মেটার অভ্যন্তরে ‘অ্যাপ্লাইড এআই’ নামে একটি নতুন ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এই ইউনিটটি মূলত স্বয়ংক্রিয় টুল ও কোড লেখার মতো জটিল কাজগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সম্পন্ন করার প্রযুক্তি তৈরি করছে, যার প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বিক দক্ষতা বাড়ানো।
তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০২২ ও ২০২৩ সালের মতো সংকটের সময় নয়, বরং আর্থিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে থেকেই মেটা এবারের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির আয় ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার। এমন আর্থিক সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে মেটার এ সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক চাকরির বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রযুক্তি খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের এই প্রবণতা এখন শুধু মেটাতেই সীমাবদ্ধ নেই। সম্প্রতি অ্যামাজনও প্রায় ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৩ হাজারের বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন, যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল দেড় লক্ষাধিক।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এএমটি