আন্তর্জাতিক

এআই প্রযুক্তির ধাক্কায় মেটায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

গত এক মাস ধরে মেটার কর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে নিজেদের নতুন করে সাজাতে ২০ মে ৮ হাজার বা মোট জনবলের ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা গত এপ্রিলেই দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এরপর সোমবার কর্মীরা জানতে পারেন, আরও ৭ হাজার কর্মীকে নতুন এআই উদ্যোগে বদলি করা হবে।

বুধবার (২০ মে) স্থানীয় সময় ভোর ৪টায় ইমেইলের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে ছাঁটাই শুরু হয়। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের কর্মীরা বুধবার সকালে নিজ নিজ টাইমজোনে ছাঁটাইয়ের খবর পাবেন। মেটার মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জেনেল গেইল চলতি সপ্তাহে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়ায় বুধবার মেটার অফিসগুলো মূলত ফাঁকাই থাকার কথা।

 

আটজন কর্মী জানিয়েছেন, অফিসের দেয়ালে কিছু কর্মী মেটার নতুন এআই ডেটা ট্র্যাকিং প্রোগ্রাম বন্ধের দাবিতে একটি পিটিশনের ফ্লায়ার ঝুলিয়ে দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী জানান, সপ্তাহ শেষে চাকরি হারানোর ভয়ে সোমবার অনেকেই অফিস থেকে ফ্রি স্ন্যাকস ও ল্যাপটপ চার্জার সংগ্রহ করেছেন। এআই ডেটা ট্র্যাকিং প্রোগ্রাম বন্ধের ওই পিটিশনে ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি কর্মী স্বাক্ষর করেছেন।

 

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মূল কোম্পানি মেটার এই অস্থিরতা এআই যুগের ছাঁটাইয়ের একটি বাস্তব চিত্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে মনোনিবেশ করতে নেটওয়ার্কিং জায়ান্ট সিসকো গত সপ্তাহে ৪ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া মাইক্রোসফট, ব্লক এবং কয়েনবেসও সম্প্রতি এই শক্তিশালী প্রযুক্তির কারণে ছাঁটাই বা বাইআউটের ঘোষণা দিয়েছে।

 

মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ তার কোম্পানিকে পুরোপুরি এআইয়ের ওপর দাঁড় করাচ্ছেন। গত মাসে মেটা জানায়, এ বছর তারা ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করবে, যা ২০২৫ সালের ব্যয়ের দ্বিগুণেরও বেশি এবং এর বড় অংশই যাবে এআইয়ের পেছনে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ‘এআই-ফার্স্ট’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার এই যাত্রা মোটেও মসৃণ নয়। ১৩ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মী জানিয়েছেন, এআইয়ের দিকে এই ঝোঁক মেটার ৭৮ হাজার কর্মীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

 

ছাঁটাইয়ের আগে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে শত শত কর্মী একত্রিত হয়ে পানাহার ও আলোচনার পরিকল্পনা করেন। নিউইয়র্ক টাইমসের দেখা একটি আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, ইভেন্টটির শিরোনাম ছিল “নেভার আ ডাল মোমেন্ট 🫡” (কখনোই একঘেয়ে মুহূর্ত নয়)।

 

মেটার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ম্যাক ওয়ার্ড এই মাসে কর্মীদের পিটিশনে স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়ে একটি পোস্টে লেখেন, "এআই একটি মালবাহী ট্রেনের মতো, তবে ভবিষ্যৎ আগে থেকেই নির্ধারিত নয়। এখনই ব্রেক কষে আমাদের এবং সমাজের ভাবা উচিত আমরা কীভাবে এগোতে চাই। কথা বলা কখনোই সহজ নয়, কিন্তু 'সহজ' কাজ করার জন্য আপনাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।" পোস্টটিতে ২ হাজারের বেশি কর্মী লাইক দিয়েছেন।

 

উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর্মীদের এসব হতাশার বিষয়ে মূলত নীরব থাকলেও গত সপ্তাহে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে মেটার চিফ টেকনোলজি অফিসার অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ কিছু উদ্বেগের জবাব দেন। নিউইয়র্ক টাইমসের পর্যালোচনা করা মিটিংয়ের একটি রেকর্ডিং অনুযায়ী তিনি বলেন, "প্রচুর সংখ্যক কর্মী তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। পুরো বিষয়টিই খারাপ। আমি এটি লুকানোর বা ভালো করে দেখানোর চেষ্টা করব না।"

 

পাঁচজন কর্মী জানিয়েছেন, চলতি মাসে মাহের সাবার নেতৃত্বে 'অ্যাপ্লাইড এআই অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং' নামে নতুন একটি দলে কাজ করার জন্য মেটা শত শত কর্মীকে নিযুক্ত করতে শুরু করেছে। অনেক কর্মী এই উদ্যোগকে "ড্রাফট" বলে অভিহিত করছেন। চারজন কর্মী জানান, প্রায় ২ হাজার কর্মীর এই দলটি এআই টুল তৈরিতে কর্মীদের ট্র্যাকিং প্রোগ্রাম থেকে পাওয়া ডেটা ব্যবহার করবে। দলটিতে ব্যবস্থাপনার স্তর অন্য বিভাগের চেয়ে কম থাকবে এবং প্রতি ম্যানেজারের অধীনে প্রায় ৫০ জন কাজ করবেন। কোম্পানি জানিয়েছে, যারা এই দলে যোগ দেবেন তারা ছাঁটাই থেকে রক্ষা পাবেন।

 

ম্যানেজারদের কাছে পাঠানো এক ইমেইলে মেটা জানিয়েছে, কর্মীদের কাছে এটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে যে এটি সরাসরি মার্ক জাকারবার্গের নির্দেশে একটি ‘উচ্চ অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ’।

 

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

 

ডিবিসি/কেএলডি

আরও পড়ুন