চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে অনুপস্থিতি এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বৃহস্পতিবার পরীক্ষার প্রথম দিনেই সারা দেশে মোট ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। শুধু তাই নয়, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ বা সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষার ফরমই পূরণ করেননি।
এ বছর সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে নিয়মিত-অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান প্রথম দিনের পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ১৭ হাজার ২৩৩ জন অনুপস্থিত ছিলেন এবং ৫ জন বহিষ্কৃত হয়েছেন।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুরআন মাজিদ পরীক্ষায় ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা-২ পরীক্ষায় ৩ হাজার ৭৩ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এই দুই বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। তুলনামূলকভাবে গত বছর পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ৭৫৯ জন এবং এর আগের বছর ছিলেন ১৫ হাজার ২০৩ জন।
শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার এই পরিসংখ্যান বেশ উদ্বেগজনক। দুই বছর আগে এসএসসি ও সমমান পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিলেন প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। কিন্তু তাদের মধ্যে এবার এইচএসসির ফরম পূরণ করেছেন মাত্র সাড়ে ৯ লাখ। অর্থাৎ, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সাড়ে ৫ লাখই এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর এই ঝরে পড়াকে একটি ‘খারাপ সূচক’ বা ইন্ডিকেটর বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, আগে মেয়েদের বিয়ে বা পরিবারের কাজে যুক্ত হওয়ার কারণে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ত। কিন্তু এবার মাদ্রাসায় ৪৪ শতাংশ, কারিগরিতে ৫৪ শতাংশ এবং সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে গেছে। শিক্ষামন্ত্রীর মতে, বর্তমানে পরীক্ষা ব্যবস্থা কঠোরভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রশাসন সব ধরনের অন্যায় সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করেছে।
ফলে বিগত দিনের মতো কোনো প্রস্তুতি ছাড়া পরীক্ষায় বসার সাহস এবার হয়তো অনেকেই করেননি। এই পরিস্থিতি উত্তরণে আগামীতে শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ডিবিসি/এমএনকে