২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর জয়ের পর সাইবার হামলার শিকার হয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন (এএফএ)। রেফারির বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এএফএর ইমেইল সার্ভার হ্যাক করে সাংবাদিকদের কাছে গণহারে প্রতিবাদী বার্তা পাঠানো হয়েছে। এসব ইমেইলে আর্জেন্টিনার জয়কে 'চুরি' আখ্যা দিয়ে ন্যায়বিচার দাবি করা হয়েছে। এই সাইবার হামলার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে এএফএ কর্তৃপক্ষ।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পায় আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর মিশরের একটি গোল বাতিল হওয়া এবং অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে পেনাল্টি বক্সে মিশরের একটি ফাউলের আবেদন নাকচ হওয়া নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
রেফারির এমন সিদ্ধান্তে মিশরীয় দল চরম ক্ষুব্ধ হয়। ম্যাচ শেষে তারকা ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো অভিযোগ করেন যে, বিশ্বকাপ ট্রফিটি আগে থেকেই আর্জেন্টিনার জন্য নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান দাবি করেন, অন্যায়ভাবে তাদের দ্বিতীয় গোলটি বাতিল করা হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় কোনো ন্যায়বিচার না থাকায় তিনি আর কখনো বিশ্বকাপ দেখবেন না।
মিশরীয় দলের এই ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা যায় হ্যাকারদের পাঠানো ইমেইলে। ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম 'দ্য অ্যাথলেটিক'-এর এক সাংবাদিকও এই হ্যাকড ইমেইলটি পেয়েছেন। ইংরেজিতে লেখা ইমেইলটির বিষয়বস্তু ছিল "সিস্টেম হ্যাকড: অন্যায্য সিদ্ধান্ত" এবং এটি শুরু হয় "এই ডাকাতি অলক্ষিত থাকবে না" বাক্য দিয়ে।
‘সকল মিশরীয় সাইবার যোদ্ধা’ স্বাক্ষরিত ওই বার্তায় দাবি করা হয়, ফিলিস্তিনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোর কারণেই মূলত মিশরের কোচকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। বার্তার শেষে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, "মাঠে যদি ন্যায়বিচার না থাকে, তবে আপনাদের নেটওয়ার্কেও শান্তির আশা করবেন না। এই বার্তাটিকে আমাদের প্রতিবাদের একটি স্থায়ী দলিল হিসেবে বিবেচনা করুন।"
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার এএফএ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করে যে, তাদের সিস্টেম থেকে এমন কিছু ইমেইল পাঠানো হয়েছে যা তাদের অনুমোদিত নয়। আইটি বিভাগের মাধ্যমে ঘটনার উৎস ও পরিধি নির্ধারণে তদন্ত চলছে জানিয়ে এএফএ বলেছে, "আমাদের অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে আমরা কাজ করছি।"
পরবর্তীতে শুক্রবার এএফএ-র একজন মুখপাত্র জানান, সাইবার নিরাপত্তার এই সমস্যাটির ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। যারা এই অননুমোদিত বার্তাগুলো পেয়েছেন, ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তাদের সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইম
ডিবিসি/পিআরএএন