একই নারীকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নাগপুরের নরেন্দ্র নগর এলাকার সুন্দরবনে প্রকাশ্য রাস্তায় গৌরব পঙ্কজ রাগদে (২৭) নামের এক কুখ্যাত গ্যাংস্টারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বন্ধু ও সহযোগী গ্যাংস্টার গৌরব রামভাউ রাউত এবং তার সঙ্গী অভিষেক ভাসনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত গৌরব রাগদে নাগপুরের আলোচিত 'গামছু' হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতিসহ অন্তত নয়টি গুরুতর মামলার আসামি ছিলেন। অভিযুক্ত রাউত ও ভাসনিকও পৃথক হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ‘রানি’ (নাম পরিবর্তিত) নামের এক নারীর সঙ্গে বিগত দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন রাগদে। তবে রাগদে কারাগারে থাকাকালীন ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে রাউতের। অপরাধ জগত থেকে দূরে থাকতে রানি ও রাউত নরেন্দ্র নগর এলাকায় একটি ক্লাউড কিচেন ব্যবসা শুরু করেন এবং কাছাকাছি একটি ভাড়া বাসায় একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন।
জামিনে মুক্ত হয়ে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রাগদে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রানির উপস্থিতিতে রাউত ও তার বন্ধুদের পার্টি করার খবর পেয়ে রাগদে সেখানে পৌঁছান। ঘরের দরজা বন্ধ পেয়ে তিনি বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালান। প্রাণ বাঁচাতে রাউত ও তার বন্ধুরা পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে রাগদে তাদের তাড়া করেন। সুন্দরবন নালার কাছে একটি কালভার্টের ওপর রাগদে ও রাউতের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রাগদে মাটিতে পড়ে গেলে রাউতের সহযোগী ভাসনিক ঘটনাস্থলে এসে রাগদের হাত থেকে ছুরি ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
পথচারীদের চিৎকারে টহলরত আজনি থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর মধ্যে কর্মকর্তা মনীশ ভালমে প্রায় দেড় কিলোমিটার ধাওয়া করে প্রধান অভিযুক্ত গৌরব রাউতকে রক্তমাখা ছুরিসহ আটক করেন। পরে গুরুতর আহত রাগদেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আজনি ও বেলতারোদি থানার সীমানা নিয়ে জটিলতার পর বেলতারোদি থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয়েছে এবং অন্য অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।