যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে একদিনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিশ্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে একটি রায়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও বাকি তিনটি ইস্যুতে তাকে বড় ধরনের ধাক্কা খেতে হয়েছে। আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রায় ১০০ বছর আগের একটি নজির বাতিল করে বলা হয়েছে, কংগ্রেস গঠিত স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের অপসারণের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ব্যাপক ক্ষমতা থাকবে।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের লেখা এই সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ফলে ট্রাম্প ও ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্টরা বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও অপসারণে বিস্তৃত ক্ষমতার অধিকারী হবেন। এই রায়ে ছয়জন রক্ষণশীল বিচারপতি পক্ষে এবং তিনজন উদারপন্থি বিচারপতি বিপক্ষে মত দেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এটিকে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধির উপযুক্ত সময় বলে উল্লেখ করেছেন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর এমন ক্ষমতা পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর বোর্ডের সদস্য লিসা কুককে অপসারণের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের উদ্যোগ সুপ্রিম কোর্ট আটকে দিয়েছে। পাঁচ-চার ভোটের রায়ে তিন উদারপন্থি বিচারপতির সঙ্গে একমত হন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ও রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ। ট্রাম্প লিসা কুকের বিরুদ্ধে বন্ধকী ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও এর পেছনে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার না কমানোর ক্ষোভ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, অপসারণের আগে কুককে অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে এবং অভিযোগগুলো প্রমাণ করতে হবে। ফেডারেল রিজার্ভের ওপর প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপের গুরুতর পরিণতির বিষয়েও প্রধান বিচারপতি সতর্ক করেছেন। একই দিন নির্বাচন সংক্রান্ত আরেকটি মামলাতেও ট্রাম্পের বিপক্ষে রায় দিয়েছে আদালত। নির্বাচনের দিনের ডাকমোহর থাকা ডাকভোট পরে পৌঁছালেও তা গণনা করা যাবে কি না, এমন প্রশ্নে আদালত ট্রাম্পের অবস্থানের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
এই রায়ে তিন উদারপন্থির সঙ্গে প্রধান বিচারপতি রবার্টস এবং ট্রাম্প মনোনীত বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটও একমত হন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লিখে বিচারপতি ব্যারেট জানান, নির্বাচনের স্থান ও পদ্ধতির বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে এবং ডাকভোট জালিয়াতির মতো বিষয়গুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প কংগ্রেসকে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করে নির্বাচনী সংস্কার প্রস্তাব পাসের আহ্বান জানিয়েছেন। সর্বশেষ ধাক্কা হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট ‘ট্রাম্প বনাম ই. জিন ক্যারল’ মানহানি মামলায় ট্রাম্পের আপিল গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই আদালত ২০২৩ সালের জুরি রায়ের ভিত্তিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়া ৫০ লাখ ডলারের দেওয়ানি ক্ষতিপূরণের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ করে দেয়। ১৯৯০-এর দশকে যৌন নিপীড়ন ও পরে মানহানিকর মন্তব্যের জেরে সাবেক ম্যাগাজিন লেখক ক্যারল এই মামলাটি করেছিলেন। এই রায়ের পর ট্রাম্প এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অবিচার আখ্যা দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তবে ক্যারলের আলাদা ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আপিলের সুযোগ থাকলেও, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলায় তার আইনি লড়াই কার্যত এখানেই শেষ হয়ে গেল।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/এফএইচআর