শুক্রবার চাঁদপুরের চল্লিশটি গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে তারা এই ঈদ উদযাপন করছে। জেলার প্রায় ৪০টি গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন।
আরব দেশসমূহের সঙ্গে মিল রেখে ও পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে ১৯২৮ সালে আগাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পালনের প্রথা চালু করেন সাদ্রা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইসহাক চৌধুরী। প্রায় ৯৫ বছর আগে সাদরা দরবার শরীফে এ প্রথা চালু হলেও এখন ৪০টি গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।
শুক্রবার চাঁদপুরে সকাল ৯টায় সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে ঈদের প্রথম জামাতের ইমামতি করবেন দরবারের পীর জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি।
জেলায় অগ্রিম ঈদ উদযাপন করা গ্রামগুলো হলো- হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বরকুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ কচুয়া ও শাহরাস্তির বেশ কয়েকটি গ্রাম।
সাদরা দরবার শরীফের পীরজাদা বাকি বিল্লাহ কাজী মিশকাত জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ নিশ্চিত হওয়ায় (সর্বপ্রথম চন্দ্র দর্শনের ভিত্তিতে) (২১ এপ্রিল) শুক্রবার ঐতিহাসিক সাদরা দরবার শরীফের সকল অনুসারীগণ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন৷ পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত ঐতিহাসিক সাদরা দরবার শরীফ ময়দানে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতি করবেন দরবার শরীফের পীর সাহেব কিবলা অধ্যক্ষ আল্লামা যাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী মু. জি. আ.।
তিনি আরো জানান, হানাফী, মালেকি, আম্বলি মাযহাবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পৃথিবীর এক প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে সর্ব প্রান্তে তার উপর আমল করতে হয়। তারই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে; এমন সংবাদ আমরা যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পেয়েছি এবং আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি শুক্রবার পহেলা শাওয়াল পৃথিবীর সকল মুসলিম উম্মাহ ঈদ উদযাপন করবে। তারই প্রেক্ষিতে আগামীকাল সাদ্রা দরবার শরীফের সকল অনুসারীগণ একত্রে ঈদ উদযাপন করবেন।
এছাড়া চাঁদপুরের পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল,পটুয়াখালী, বরগুনা, শরীয়তপুর ও চট্টগ্রাম জেলার কয়েকটি স্থানে মাও. ইছহাক খানের অনুসারীরা একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।
ডিবিসি/রূপক