জেলার সংবাদ

শ্মশানে দেবাশীষ ও ছেলেকে সমাহিত, মুসলিম রীতিতে স্ত্রী-শ্বশুরের দাফন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

প্রিয় স্ত্রী ও আড়াই বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত। বেঙ্গালুরুতে প্রায় ১৩ দিন থাকার পর তাঁরা যান কলকাতায়। পরে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সেখানে তাঁদের সাথে যুক্ত হন দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেনও। কিন্তু হোটেলের এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে নাতি, মেয়ে, জামাই ও শ্বশুরসহ একই সাথে প্রাণ হারান পরিবারের এই চার সদস্য।

চার দিনের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুটি মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহত চারজনের নিথর দেহ এসে পৌঁছায় কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ায় দেবাশীষের ভাড়া বাসার গলিতে। একটি অ্যাম্বুলেন্সে ছিলেন দেবাশীষ, তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন ও আড়াই বছরের ছেলে শর্ণশিষ এবং অন্যটিতে ছিলেন শ্বশুর আকরাম হোসেন। অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছার সাথে সাথে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাবা-মা, স্বজন, প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। এ সময় দেবাশীষের আড়াই বছরের ছেলের কফিন নিচে নামানো হলেও বাকিগুলো অ্যাম্বুলেন্সেই রাখা হয়।

 

বাড়িতে প্রায় আধা ঘণ্টার আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ নেওয়া হয় পাশের আড়ুয়াপাড়া আব্দুল করিম মেমোরিয়াল হল প্রাঙ্গণে। সেখানে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় করেন একনজর দেখার জন্য।

 

তবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষযাত্রায় ঘটে করুণ বিচ্ছেদ। একসাথে মারা গেলেও অন্তিম শয়ানে স্বামী ও সন্তান থেকে আলাদা হয়ে যান স্ত্রী আফসানা শিম্মিন। দেবাশীষ ও তাঁর শিশুপুত্র শর্ণশিষকে যখন কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, তখন স্ত্রী আফসানা শিম্মিন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ দাফনের উদ্দেশ্যে থানাপাড়ার বাসায় নেওয়া হয়। কুঠিপাড়া এলাকার মডেল মসজিদে তাঁদের জানাজা শেষে পৌর গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

 

অন্যদিকে, দেবাশীষের স্বজন ও সহকর্মীরা প্রায় এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মরদেহ নিয়ে যান কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগে থেকে খুঁড়ে রাখা পাশাপাশি সমাধিতে সমাহিত করা হয় পিতা ও পুত্রকে। রাতের মধ্যেই সম্পন্ন হয় সকল আনুষ্ঠানিকতা।

 

এদিকে দেবাশীষের একমাত্র কন্যা ৮ বছর বয়সী দিবানীতা দত্ত দেশেই দাদা-দাদীর কাছে ছিল। সে শেষবারের মতো একপলক দেখে বাবা, মা, ভাই ও নানার মরদেহ।

 

কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারের মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই নেই, তাই তাঁদের জন্য আর্থিক সহযোগিতাসহ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে। তবে শেষ বিদায়ের এই মুহূর্তে প্রশাসনের শীর্ষ কোনো কর্মকর্তাকে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন