ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বিশৃঙ্খল যানজটের মধ্যে যাত্রীরা এখন অটোরিকশার পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি দেখতে পাচ্ছেন, যার নিচে লেখা রয়েছে, ‘হ্যাপি বার্থডে আমেরিকা!’ সম্প্রতি দিল্লির রাস্তায় ট্রাম্প এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির বড় বড় ছবিসহ এমন প্রায় ১০০টি অটোরিকশা নামানো হয়েছে। সাধারণত দিল্লির তিন চাকার এই যানগুলোর পেছনে অখ্যাত ফার্টিলিটি ক্লিনিক, ইংরেজি শেখার কোর্স বা ভেষজ ওষুধের বিজ্ঞাপন দেখা গেলেও, এবারের এই অভিনব মার্কিন বিজ্ঞাপনটি সবার নজর কেড়েছে।
মূলত আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর গত মাসে এই ব্যতিক্রমী প্রচারণার উদ্বোধন করেন। বিভিন্ন দেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও জনসংযোগ প্রচারণার যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে, এটি তারই অংশ। গত মাসে মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই উদ্যোগের কথা জানিয়ে লিখেছিল, ‘স্বাধীনতা এখন আক্ষরিক অর্থেই চলমান! পারলে তাদের ধরে ফেলুন, খুব শিগগিরই পুরো দিল্লি জুড়ে এদের দেখা যাবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে বেশ কয়েকটি ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের ওপর কর বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সেই সম্পর্ক স্থিতিশীল করারই চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহান্তে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দিল্লি সফরের কথা রয়েছে।
তবে দুই দেশের বড় বড় এসব কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ নিয়ে অটোরিকশাচালকদের কোনো মাথাব্যথা নেই। গণেশ কুমার নামের এক চালক জানান, আয়োজকরা প্রথম তার কাছে পোস্টার লাগানোর প্রস্তাব দিলে তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মাত্র এক প্যাকেট চায়ের বিনিময়ে রাজি করানো হয়! অন্যদিকে, প্রদীপ কুমার নামের আরেক চালক জানান, তার অটোরিকশার ছাদ ছিঁড়ে গিয়েছিল বলেই মূলত সেটি ঢাকতে তিনি পোস্টারটি লাগিয়েছেন। বিজ্ঞাপনে কী লেখা আছে জানতে চাইলে প্রদীপ সহজভাবেই বলেন, ‘আমি শুধু জানি তিনি ট্রাম্প। এর বাইরে আমি আর কিছুই জানি না।’
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
ডিবিসি/এফএইচআর