বাংলাদেশ

এক মাস যাবৎ অফিসে অনুপস্থিত ভোলা সদর খাদ্য গুদামের পরিদর্শক

ভোলা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাসময়ে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাম্প্রতিক কঠোর নির্দেশনা উপহাসে পরিণত হয়েছে ভোলা সদর খাদ্য গুদামে। গত সোমবার (২ মার্চ) প্রকাশিত পরিপত্রে সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বাধ্যতামূলক নিজ কক্ষে অবস্থানের নির্দেশ থাকলেও তা অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে সরেজমিনে ওই কার্যালয়ে গিয়ে তার কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। অফিসের অন্যান্য কর্মীরা উপস্থিত থাকলেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দেখা মেলেনি।

কার্যালয়ের উপ-খাদ্য পরিদর্শক মো. ফাহাদ হোসেন জানান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছুটিতে রয়েছেন। তবে এ সময় অফিসের হাজিরা খাতাকে ‘গোপনীয় নথি’ দাবি করে তিনি তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে অনুপস্থিত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে ভোলা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. এহসানুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জেলার সব কার্যালয়ে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

তবে তিনি স্বীকার করেন যে, মনিরুজ্জামান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কেবল মৌখিকভাবে ছুটি নিয়েছেন, যা বিধি মোতাবেক লিখিত হওয়া উচিত ছিল। এছাড়া হাজিরা খাতা কোনো গোপনীয় নথি নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

 

পরবর্তীতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অনুমতি নিয়ে সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের হাজিরা খাতা পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেখানে অন্যান্যদের স্বাক্ষর থাকলেও গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরের স্থানে কোনো স্বাক্ষর নেই। একটানা এত দিন কেন স্বাক্ষর নেই, সে বিষয়ে উপ-খাদ্য পরিদর্শক ফাহাদ হোসেন কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সরকারি কর্মচারীদের অভিযোগ, অনেক অসাধু কর্মকর্তা সপ্তাহের শেষে মৌখিক ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন এবং রবিবারে দেরিতে ফেরেন। যথাযথ তদারকির অভাবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রশ্রয়ে এই ধরনের 'অফিস চুরি' এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সরকারি নিয়ম রক্ষায় অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে লিখিত আবেদন ও হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন