শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও বাস্তবে একটি মুরগি প্রতিদিন দুইটি করে ডিম দিচ্ছে। এর আগে এক মুরগির পেট থেকে এক দিনে দুই ডিম দেওয়ার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এবার অবিশ্বাস্য এই ঘটনাটিই ঘটেছে নাটোরের বাগাতিপাড়ায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়নের ঠেঙ্গামারা গ্রামের রকিবুল ইসলাম বাড়িতে মুরগি পালন করেন। তার মধ্যে ভিন্ন জাতের এমন একটি মুরগি আছে। মুরগিটি প্রতিদিন দুইটি করে ডিম দিচ্ছে।
অবিশ্বাস্য ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সরেজমিনে রকিবুলের মুরগির খামার পরিদর্শন করা হয় গতকাল সকালে। বাড়িতে ঢুকতেই দেখা গেল স্থানীয় লোকজন রহস্যময় সেই মুরগিটিকে দেখার জন্য জটলা পাকিয়ে আছেন। উৎসুখ জনতার অনেকেই মুরগিটিকে নিয়ে ছবিও তুলছেন। ছবি তুলছেন মুরগির মালিক ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথেও। ভিড় ঠেলে ভিতরে গিয়ে কথা হয় মালিক রকিবুল ইসলাম রকির সাথে।
তিনি জানান, ব্রয়লার মুরগির ব্যবসা করার জন্য নাটোরের বিসমিল্লাহ হ্যাচারী থেকে ১০০টি মুরগি ক্রয় করে নিয়ে আসেন। মুরগি গুলো আস্তে আস্তে বড় হতে থাকলে তিনি সেগুলোকে বিক্রি করে দিয়ে এই মুরগিটিকে পালনের উদ্দেশ্যে রেখে দেন। হটাৎ একদিন মুরগির কোঠায় একটি ডিম দেখে অবাক হন তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা। তারপরের দিনই দুইটি ডিম দেখেন কোঠায়।
এভাবে ৪ মাস থেকে দুইটি করে ডিম দিচ্ছে মুরগিটি। রাতে মুরগিটি কোঠায় ঢুকলে সকালে বেড় হবার সময় একটি ডিম পাওয়া যায় আবার দুপুরে ঢুকলে বিকেলে আরেকটি ডিম পাওয়া যায়। মাঝে মধ্যে একটি করেও ডিম দেয় মুরগিটি আর দ্বিতীয় ডিমটি একটু নরম হয় বলেও জানান তিনি। মুরগিটির ওজন প্রায় ৬ কেজি।
এদিকে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেনারী হাসপাতাল বলছে মুরগিটি খাবারে অতিরিক্ত পুষ্টি পাওয়ায় এমনটি ঘটতে পারে। লোকমুখে শুনে এক মুরগির দুইটি ডিম দেবার ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলে দাবী করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান।
এবিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)’র উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম তপু বলেন, ‘পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। হয়তো বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে।’ মুরগিটি নিয়ে গবেষণা করে নতুন জাত সৃষ্টি করা যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেনারী হাসপাতাল কর্মকর্তা (ভার.) ডা. আবু হায়দার আলী বলেন, ‘স্বাভাবিক ভাবে একটি ডিম তৈরি হতে ২৪ ঘন্টা সময় লাগে। ১২ ঘন্টা পর পর একটি করে ডিম দেয়ার ঘটনাটি অস্বাভাবিক। মুরগিটি দেখে ঢাকা থেকে গবেষক টিম আনার ব্যবস্থা করব। এই মুরগি থেকে দুইটি করে ডিম দেয়া মুরগির জাত উদ্ভাবন করতে পারলে শুধু জাতীয় না আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সুনাম কুড়াবে বলে আশা করি। তবে মুরগিটি কোন জাতের তা এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর জানা যাবে এটি আসলে কোন জাতের মুরগি।
ডিবিসি/ এমএলএন