ভ্রমণ

এক যুগ পূর্ণ করল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, লক্ষ্য এবার ইউরোপ-আমেরিকা

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সাফল্য ও গৌরবের ১২ বছর পেরিয়ে ১৩তম বর্ষে পদার্পণ করেছে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা-যশোর রুটে ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ডানা মেলা এই বিমান সংস্থাটি বর্তমানে ২৫টি এয়ারক্রাফট নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলে মোট ২০টি গন্তব্যে সফলভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

এক যুগপূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে সব শুভানুধ্যায়ী, যাত্রী এবং অংশীজনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

 

যাত্রার শুরু থেকেই ইউএস-বাংলা এভিয়েশন শিল্পে অনন্য রেকর্ড গড়েছে। বর্তমানে বিমান সংস্থাটির বহরে ৩টি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০ এবং ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ সহ মোট ২৫টি এয়ারক্রাফট রয়েছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশের বেশি অন-টাইম (যথাসময়ে) ফ্লাইট পরিচালনার গৌরবময় রেকর্ড ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সৈয়দপুর ও রাজশাহীতে যাত্রী পরিবহন করছে সংস্থাটি। অন্যদিকে, ২০১৬ সালের মে মাসে ঢাকা-কাঠমান্ডু ফ্লাইটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রা শুরু করে এটি। বর্তমানে কলকাতা, চেন্নাই, মালে, মাস্কাট, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবী, জেদ্দা, রিয়াদ, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজু রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা। স্বাধীনতার পর ইউএস-বাংলাই প্রথম দেশীয় বিমান সংস্থা, যা চীনের কোনো গন্তব্য, ভারতের চেন্নাই কিংবা মালদ্বীপের রাজধানী মালে-তে সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে।

 

যাত্রীসেবায় অনন্য নজির স্থাপন করায় ইউএস-বাংলা দেশীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে যাত্রীদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৫ সাল ছাড়াও টানা ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালেও দেশের ‘বেস্ট ডমেস্টিক এয়ারলাইন্স’ হিসেবে সেরা পুরস্কার অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

ভবিষ্যত বহর ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে এক মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ইউএস-বাংলা। ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের বহরে আরও ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ নেক্সট জেনারেশন এয়ারক্রাফট যুক্ত হতে যাচ্ছে। এছাড়া চলতি বছরেই নেপালের কাঠমান্ডুতে পুনরায় ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

প্রবাসী বাংলাদেশীদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম এবং এশিয়ার কলম্বো, জহুরবারু, পেনাং ও হংকং রুটে ফ্লাইট শুরুর প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি। এখানেই শেষ নয়, ২০২৮ সালের মধ্যে লন্ডন, রোমসহ ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক, টরেন্টো ও অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ডানা মেলার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা।

 

বর্তমানে দেশে-বিদেশে ইউএস-বাংলার প্রায় ৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে। এছাড়া নিয়মিত ট্যাক্স ও সারচার্জ পরিশোধের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সচল রাখা এবং আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালিয়ে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সুদৃঢ় অবদান রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

যাত্রীদের সুবিধার্থে আধুনিক ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের পাশাপাশি দেশে-বিদেশে রয়েছে ৪০টির বেশি নিজস্ব সেলস অফিস। এছাড়া নিয়মিত যাত্রীদের জন্য রয়েছে ‘স্কাইস্টার’ প্রোগ্রাম। এভিয়েশন শিল্পে ইউএস-বাংলার অন্যতম অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হলো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণের মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ডেলিভারী নিশ্চিত করা। ‘আপনি লাগেজের জন্য অপেক্ষা করবেন না বরং লাগেজ আপনার জন্য অপেক্ষা করবে’- এই ধারণাকে বাস্তব রূপ দিতে কাজ করছে তারা। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে কার্গো পরিবহন এবং দেশের শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নেও প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

এক যুগপূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। বর্তমান বিশ্বে যাত্রীদের সঠিক সেবা প্রদানের জন্য আধুনিক এয়ারক্রাফটের কোনো বিকল্প নেই। ইউএস-বাংলা যাত্রীদের আরামদায়ক সেবাকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এয়ারক্রাফট বহরে যুক্ত করে চলেছে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে ইউএস-বাংলা পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।’

 

তিনি এই দীর্ঘ পথচলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যূর অপারেটর, কর্পোরেট অফিস, গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন