ভারতের রাজস্থানের ঘটনা

এক হাতে সিগারেট অন্য হাতে স্টিয়ারিং, বেপরোয়া গতিতে প্রাণ গেল ৪ বন্ধুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভারতের রাজস্থানের উদয়পুরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে চার কিশোর, যাদের মধ্যে তিনজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। একটি ভিডিও ফুটেজ থেকে জানা যায়, দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে কিশোরদের বহনকারী গাড়িটি ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার বেগে ছুটছিল। চালকের আসনে থাকা ১৯ বছর বয়সী তরুণের এক হাতে ছিল জ্বলন্ত সিগারেট, আর গাড়ির ভেতরে ছিল উচ্চস্বরে গান ও ভিডিওর শব্দ। বন্ধুদের বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে যায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ছয় বন্ধু উদয়পুরে একটি ‘মেহফিল-ই-মিলাদ’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে চা পানের উদ্দেশ্যে পুরোনো আহমেদাবাদ হাইওয়ের দিকে রওনা হয়েছিল। পথিমধ্যে তাদের বেপরোয়া গতির গাড়িটির সঙ্গে গুজরাটগামী অপর একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ও হাসপাতালে নেয়ার পথে চার বন্ধুর মৃত্যু হয় এবং বাকি দুইজন গুরুতর আহত হয়। নিহতরা হলেনমোহাম্মদ আয়ান (১৭), আদিল কুরেশি (১৪), শের মোহাম্মদ (১৯) ও গোলাম খাজা (১৭)। অপর গাড়িতে থাকা চারজনও এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন।

 

দুর্ঘটনার আগে ধারণকৃত ৯ মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা গাড়ির পেছনের সিটে বসে থাকা এক বন্ধু রেকর্ড করেছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, চালক শের মোহাম্মদ অত্যন্ত ক্ষিপ্রগতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন এবং তার এক হাতে সিগারেট। স্পিডোমিটারের কাঁটা যখন ১০০ কিলোমিটার অতিক্রম করে, তখন থেকেই গাড়ির অন্য আরোহীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এক বন্ধু ক্যামেরাটি স্পিডোমিটারের দিকে ঘুরিয়ে দেখায় যে গতি তখন ১২০ কিলোমিটার। এ সময় এক বন্ধু চালককে উদ্দেশ্য করে ‘হাত হটাও’ (হাত সরাও) বলে সতর্ক করে। কিছুক্ষণ পরেই আরেক বন্ধু ভীতকণ্ঠে বলে ওঠে যে গাড়ির গতি ১৪০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে এবং সে-ও গতি কমানোর অনুরোধ জানায়।

 

কিন্তু চালক সেই অনুরোধে শোনেননি। এর ঠিক কয়েক সেকেন্ড পরেই ভিডিওতে গাড়িটি প্রচণ্ডভাবে দুলে উঠতে দেখা যায়, শোনা যায় একটি আর্তনাদ এবং বিকট শব্দে কাচ ভেঙে যাওয়ার আওয়াজ। এরপরই ভিডিওর স্ক্রিন অন্ধকার হয়ে যায়, কিন্তু মোবাইল ফোনের রেকর্ডিং চলতে থাকে। ভিডিওর ১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের মাথায় এই সংঘর্ষ ঘটে এবং পরবর্তী ৪০ সেকেন্ডের মতো স্থির চিত্র দেখা যায়।

 

অন্ধকার নেমে আসা ভিডিওর অডিওতে শোনা যায় মর্মান্তিক আর্তনাদ। দুর্ঘটনার পর প্রায় দুই মিনিটেরও বেশি সময় ধরে আহতদের কাতরাতে শোনা যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া এক কিশোর সাহায্যের জন্য আকুতি জানিয়ে বলছিল, বাঁচাও ভাইয়া… মা… বাঁচাও। সে বারবার বলছিল যে সে ভেতরে আটকে আছে এবং শ্বাস নিতে পারছে না। ভিডিওর শেষ পর্যন্ত তার এই বাঁচার আকুতি শোনা যায়।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিশোরদের ওই গাড়ির জীবিত থাকা দুই আরোহী এবং অপর গাড়ির আহত চারজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভিডিওটি দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে পুলিশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।

 

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন