স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান বিএনপি সরকার ব্যাংকমুখী নয়, বরং একটি গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে। যারা একে দলীয়করণ বা দলীয় বাজেট বলছেন, তারা একটি অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত মন্তব্য করছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থল, জনসভা মঞ্চ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনের সময় তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা কি শুধু বিএনপির জন্য? অবশ্যই নয়। এটি বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তসহ সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। মানুষের মূল চাহিদা হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যেন সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তাহলে এই বাজেট কি গণমুখী ও দরিদ্রবান্ধব নয়? এটি নিঃসন্দেহে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার সরকারের ছিল, সেসব বিষয়ও এই বাজেটে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাজেটের অর্থনৈতিক কাঠামোর কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বাজেটে একদিকে জনগণের ওপর করের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে রাজস্ব আয়ের পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলে উন্নয়ন বাজেটে দেশীয় আয়ের অবদানও বাড়বে। আমরা যদি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সবসময় ব্যাংক ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকি, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে এই নির্ভরশীলতার চক্র থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না। সেই লক্ষ্য থেকেই আমরা রাজস্বভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছি।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৭ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে মাত্র সাড়ে তিন মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এটিই আমাদের সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং নির্বাচনি জোটের সমর্থনে গঠিত সরকারের বাজেট। কেউ যদি এটিকে দলীয় বাজেট বলে আখ্যায়িত করেন, তাহলে আমি বলব-গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারের বাজেটকে শুধুমাত্র দলীয় বাজেট হিসেবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত অনভিপ্রেত।
উল্লেখ্য, আজ শনিবার (১৩ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের কক্সবাজার সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
ডিবিসি/এসএফএল