গ্রিস থেকে মতিউর রহমান মুন্না: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং পাসপোর্টের তথ্যের গরমিলে দেশে ফিরে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি। বিদেশে যাওয়ার সময় দালালদের মাধ্যমে বা অসচেতনতাবশত পাসপোর্টে ভুল নাম ও বয়স দেওয়ায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
বিদেশের মাটিতে ওই পাসপোর্টের ভিত্তিতেই রেসিডেন্স পারমিটসহ অন্যান্য বৈধ নথিপত্র তৈরি হওয়ায় দেশে ফিরে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তারা পদে পদে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। হয়রানির শিকার প্রবাসীদের দাবি, বিদেশে ব্যবহৃত বৈধ নথিপত্রের সঙ্গে মিল রেখে তাদের এনআইডি সংশোধনের অন্তত একবার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হোক।
গ্রিস প্রবাসী হবিগঞ্জের মশিউর রহমান মুমিন এই ভোগান্তির অন্যতম শিকার। তার এনআইডিতে জন্মসাল ১৯৯৫ হলেও, দালালের মাধ্যমে তৈরি করা পাসপোর্টে নাম দেওয়া হয় ‘মশিউর মিয়া’ এবং জন্মসাল উল্লেখ করা হয় ১৯৯৯। গ্রিসে ওই পাসপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতেই তার যাবতীয় বৈধ কাগজপত্র তৈরি হয়। কিন্তু সম্প্রতি দেশে ফিরে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গেলে এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্যের এই গরমিলের কারণে তিনি ব্যর্থ হন। মাসের পর মাস ঘুরেও এনআইডি সংশোধনের কোনো সমাধান পাননি তিনি। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আরেক ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম। দীর্ঘদিন প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে ই-পাসপোর্ট নবায়ন করতে গিয়ে তিনি দেখেন, এনআইডির সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের মিল না থাকায় তার আবেদন আটকে গেছে।
প্রবাসী ও কমিউনিটি নেতারা জানিয়েছেন, বিদেশে থাকার সময় এনআইডির খুব একটা প্রয়োজন না হলেও দেশে ফিরে ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব খোলা, জমি ক্রয়-বিক্রয় থেকে শুরু করে সব কাজেই এটি অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়। কমিউনিটি নেতা জাহিদ ইসলামের মতে, দালালদের কারণে অনেক প্রবাসী ভুল তথ্য নিয়ে বিদেশে গেলেও পরবর্তীতে ওই তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের আইনি পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তাই প্রকৃত পরিচয় ও বিদেশের বৈধ নথিপত্র যাচাই করে প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের এই সংকট নিরসনে সরকারি প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং দ্রুত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিবিসি/পিআরএএন