বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক জায়ান্ট এনভিডিয়া (Nvidia) বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় হাই ভ্যালুড কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। Companies Market Cap ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে এনভিডিয়ার মার্কেট ক্যাপিটাল ভ্যালু দাঁড়িয়েছে ৪.৭১৮ ট্রিলিয়ন ডলার, যদিও গত মে মাসে তা ছিল ৫.০৭৪ ট্রিলিয়ন ডলার।
একই ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে এনভিডিয়ার পাশাপাশি বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষস্থানীয় হাই ভ্যালুড কোম্পানি হিসেবে Apple-এর মার্কেট ক্যাপিটাল ভ্যালু ছিল ৪.৫৩২ ট্রিলিয়ন ডলার এবং তৃতীয় স্থানে থাকা Alphabet (Google)-এর মার্কেট ক্যাপিটাল ভ্যালু ছিল ৪.৩৪৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
২০০০ সালে এনভিডিয়া (Nvidia)-এর মোট মার্কেট ক্যাপিটাল ভ্যালু ছিল মাত্র প্রায় ২.২২ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে এনভিডিয়ায় কর্মরত কর্মীর সংখ্যা ৪২ হাজারেরও বেশি। কোম্পানির প্রধান জেনসেন হুয়াং হচ্ছেন একাধারে প্রতিষ্ঠাতা, প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO)।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এনভিডিয়ার সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করেছে ২১৫.৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব, যা ২০২৪ সালের ১৩০.৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ছিল। একই সময়ে কোম্পানির আয় বা নিট মুনাফা ছিল ১৪১.৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এদিকে, ইয়াহু ফাইন্যান্স ও রয়টার্সের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ২৭ মে এনভিডিয়া (Nvidia) তাইওয়ানে সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে বার্ষিক প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এই উদ্যোগ মার্কিন প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি এজেন্ডার অংশ, যার লক্ষ্য বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করা।
এনভিডিয়া কর্পোরেশন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্রাফিক্স প্রসেসর ও চিপসেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, যা ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও গেম কনসোলের জন্য প্রযুক্তি উন্নয়ন করে। এর প্রধান কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব উৎপাদন কারখানা পরিচালনা করে না; তাই এটি ফ্যাবলেস নীতিতে কাজ করে।
কোম্পানিটি ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে জেনসেন হুয়াং, কার্টিস প্রিয়েম এবং ক্রিস মালাকাওস্কি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৫ সালের মে মাসে এনভিডিয়া বাজারে আনে NV1 (STG-2000), যা ছিল প্রথম দিকের থ্রিডি অ্যাক্সিলারেটর প্রসেসর (GPU)। ১৯৯৯ সালের জানুয়ারিতে এনভিডিয়া নাসডাক শেয়ারবাজারে (NVDA) অন্তর্ভুক্ত হয় এবং সেই সময়ে তাদের নিবন্ধিত মার্কেট ক্যাপিটাল ভ্যালু ছিল মাত্র প্রায় ০.৯৬ বিলিয়ন ডলার।
পরিশেষে বলা যায়, এনভিডিয়ার চ্যালেঞ্জিং যাত্রা প্রমাণ করে যে উদ্ভাবন, নেতৃত্ব এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে বিশ্ববাজারে শীর্ষে পৌঁছাতে পারে। ক্ষুদ্র সূচনা থেকে শুরু করে আজ প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য অর্জন, এনভিডিয়া শুধু প্রযুক্তি শিল্পের নয়, বরং আধুনিক ব্যবসায়িক সাফল্যেরও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে রয়ে গেছে।
লেখক পরিচিতি: সিরাজুর রহমান
শিক্ষক ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক লেখক।
ডিবিসি/আরএসএল