'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'-র বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্যের জেরে সোমবার সরগরম হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। রাজ্যে এ ধরনের লাগামহীন ও প্ররোচনামূলক বক্তব্য যে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, তা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "এনাফ ইজ এনাফ। এই রকম কথা বলার আগে ২৫ বার ভাববেন। সময় এসেছে এদের শিক্ষা দেওয়ার।"
সোমবার বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক উৎপল ব্রহ্মচারী হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যের বিষয়টি নিয়ে 'পয়েন্ট অফ অর্ডার' উত্থাপন করেন।
স্পিকার রথীন বসুর নির্দেশে পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং এই বিষয়ে বিবৃতি দেবেন। এরপরই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুন কবীরের দুটি জনসভার বিতর্কিত মন্তব্য পাঠ করে শোনান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
গত ৮ জুন শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটে এবং ২৬ জুন রেজিনগরের কাশীপুরে আয়োজিত জনসভায় পুলিশ প্রশাসন ও বিরোধী দলের বিরুদ্ধে চরম আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। মুসলমানদের নিয়ে ময়দানে নামার হুমকি থেকে শুরু করে 'সাটা ভাঙা মার' দেওয়া এবং থানা ঘেরাও করে ওসিকে বের করে আনার মতো প্রকাশ্য হুমকির তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবীরদের মতো ব্যক্তিদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বিধায়কের এই উসকানিমূলক মন্তব্যের জেরে রেজিনগরে ইতিমধ্যেই দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ওই বিধায়ক পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের মন্তব্য করছেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ সফরে যাবেন বলেও ঘোষণা করেন। পাশাপাশি, রাজ্যে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ কঠোর হাতে দমন করতে সোমবারই বিধানসভায় 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল, ২০২৬' পেশ করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে হুমায়ুন কবীর পাল্টা দাবি করেছেন যে, তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে তার বিরুদ্ধে যথাক্রমে ২৭টি এবং ৬০টি মামলা হলেও কোনোটিই আজ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, এই ইস্যুতে হুমায়ুন কবীরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা নওশাদ সিদ্দিকীও। রাজনৈতিক স্বার্থে মুসলমানদের নাম জড়িয়ে এহেন উসকানিমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, এ ধরনের বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর কোনো সহমত নেই।
ডিবিসি/পিআরএএন