তুর্কি ফুটবলাররা মাঠে তেমন একটা আলো ছড়াতে না পারলেও, দেশটির হয়ে গ্যালারি মাতাচ্ছেন ‘উদি নেকো’ নামের এক রহস্যময় সমর্থক, যাঁর অদ্ভুত বেশভূষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তোলপাড় চলছে। গত ১৪ জুন কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন ক্যামেরার লেন্স আচমকা তাঁর ওপর পড়ার পর থেকেই তিনি রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যান।
প্রথম দেখায় যে কারও পিলে চমকে দেওয়ার মতো এই রূপের পুরো মুখ কালো রঙে ঢাকা, চুল আর চোখজোড়া ধবধবে সাদা এবং সঙ্গে রয়েছে একগাল লম্বা দাড়ি। তবে এই বিচিত্র সাজের আড়ালে লুকিয়ে আছে ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা।
ক্যামেরার সামনে ‘উদি নেকো’ নামে পরিচিত হলেও তাঁর আসল নাম নেজদেত ওলচেরমান। বিশ্বকাপের সৌজন্যে পৃথিবী তাঁকে নতুন করে চিনলেও নিজ দেশ তুরস্কে তিনি বহু আগে থেকেই পরিচিত এবং তুর্কি ক্লাব বেসিকতাসের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে প্রিয় দল যখনই ঘরের মাঠ তুপরাস স্টেডিয়ামে খেলতে নামে, তখনই গ্যালারিতে তাঁর দেখা মেলে। ক্লাব ফুটবলের সেই আবেগই তিনি এবার জাতীয় দলের জার্সিতে বয়ে নিয়ে এসেছেন। নিজেকে এমন ভিন্ন রূপে দাঁড় করাতে প্রতি ম্যাচের আগে আয়নার সামনে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিখুঁতভাবে সাজেন ওলচেরমান। তবে এই সাজ শুধুই বিনোদন নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর এক দর্শন। এই রূপ মূলত ‘ব্ল্যাক বুল’ বা ‘কালো ষাঁড়’ এর প্রতীক, যা শক্তি, সহনশীলতা আর কখনো হার না মানার এক অদম্য মানসিকতাকে ফুটিয়ে তোলে। উদি নেকো নামটির পেছনেও সুন্দর এক গল্প আছে; ‘নেকো’ শব্দটি এসেছে তাঁর আসল নাম নেজদেতের চলিত সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে এবং তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘উদ’ বাজাতে পারদর্শী হওয়ায় তাঁকে ‘উদি’ বলা হয়।
ফুটবলের প্রতি এমন নিখাদ ভালোবাসা দেখে বেসিকতাস ক্লাব কর্তৃপক্ষও ওলচেরমানকে একাধিকবার বিশেষভাবে সম্মানিত করেছে। অথচ মজার ব্যাপার হলো, ফুটবল বা বিনোদনজগতের সঙ্গে তাঁর পেশাগত জীবনের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। ওলচেরমান মূলত একজন সফল জুয়েলারি ব্যবসায়ী। কেবল তাই নয়, রহস্যময় এই চরিত্রের মানুষটি দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তুরস্কের পরের রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্নটা আগেই শেষ হয়ে গেলেও আগামী শুক্রবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দলটির মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। সেই ম্যাচে দল হারুক কিংবা জিতুক, নিজের চেনা সাজে ঠিকই গ্যালারিতে হাজির হবেন ‘উদি নেকো’।