ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের রক্ষণাত্মক অবস্থানে এক নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধের একটি "নতুন পর্যায়" শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ শক্তিশালী হবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা এক ভিডিও বার্তায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ মৌসাভি ইরানের সামরিক কৌশলের এই নতুন ও শক্তিশালী ধাপের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এখন থেকে প্রতিটি হামলায় দ্বৈত মিসাইল লঞ্চার ব্যবহার করা হবে, যা আগের চেয়ে দ্বিগুণ ধ্বংসক্ষমতা নিশ্চিত করবে।
জেনারেল মৌসাভি বলেন, "এখন যুদ্ধের এক নতুন পর্যায় শুরু হলো। ফাতেহ এবং খায়বার-শেখান (খায়বার-বিধ্বংসী) ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন ও আধুনিক দ্বৈত লঞ্চার ইউনিটের মাধ্যমে পূর্বের সকল হামলার শক্তি এখন থেকে দুই গুণ বৃদ্ধি করা হবে।"
এই জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের সতর্কবার্তা মূলত যে কোনো উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইরানের কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার সংকল্পকেই তুলে ধরে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিককে হত্যার পর থেকে ইরান ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের ওপর বড় ধরনের উস্কানিমূলক সামরিক অভিযান শুরু করে।
ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার ফলে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে ইরানও দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে দখলকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। জেনারেল মৌসাভির সর্বশেষ এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতকে আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
ডিবিসি/এসএফএল