দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় রংপুরের পীরগঞ্জের কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয় ও ঘাসিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে মোট ৩৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেনি একজনও। এর মধ্যে কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ১৮ জন পরীক্ষার্থীর ৯ জন বিজ্ঞান ও ৯ জন মানবিক বিভাগের। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন ৯ জন এবং কর্মচারী ৬ জন। ফলাফল শূন্য হওয়ায় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান ও পাঠদানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, রংপুর বিভাগের আট জেলার ১৮টি বিদ্যালয়ের ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে রংপুরের দুটি বিদ্যালয় রয়েছে।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের কুমারপুর বিদ্যালয়ের ফলাফল নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে। সাবেক অভিভাবক আতাউজ্জামান জানান, অতীতেও প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল খুব একটা ভালো ছিল না। এবার শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় তিনি হতবাক। এর জন্য তিনি শিক্ষকদের পাঠদানের মানকে দায়ী করেন।
তবে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেক মিয়া বলছেন, গণিতে শিক্ষার্থীদের খারাপ ফলাফলের কারণেই এবার পাসের হার শূন্যে নেমেছে। ভবিষ্যতে এমন ফলাফল যাতে না হয়, সেজন্য শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শুধু রংপুর নয়, বিভাগের গাইবান্ধায় দুটি, নীলফামারীতে একটি, কুড়িগ্রামে চারটি, লালমনিরহাটে একটি, দিনাজপুরে একটি, ঠাকুরগাঁওয়ে পাঁচটি এবং পঞ্চগড়ে দুটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই এবার পাস করতে পারেনি।
এদিকে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রংপুর বিভাগের আট জেলায় এবার মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৭ হাজার ১৫২ জন এবং ছাত্র ৬ হাজার ৪৮৭ জন।
বিভাগে এবার ২৮৩টি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে পাসের হার শূন্য, এমন বিদ্যালয় রয়েছে ১৮টি।
ডিবিসি/ এসভিএন