আন্তর্জাতিক, ইউরোপ

এস্তোনিয়ায় সমুদ্রের ওপর দিয়ে চলছে গাড়ি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সমুদ্রের নীল জলরাশির ওপর দিয়ে শাঁ শাঁ করে ছুটে চলছে গাড়ি দৃশ্যটি প্রথম দেখায় কাল্পনিক মনে হলেও উত্তর ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়ায় এখন এটি বাস্তবে রুপ নিয়েছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহে সমুদ্রের পানি জমে শক্ত বরফে পরিণত হওয়ায় দেশটির দুই প্রধান দ্বীপের মধ্যে যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে দীর্ঘ ২০ কিলোমিটারের এক অনন্য ‘আইস রোড’ বা বরফপথ।

এবারের শীতে উত্তর ইউরোপের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় হ্রদ, নদী এবং বাল্টিক সাগরের একাংশ জমাট বেঁধেছে। বিশেষ করে পশ্চিম এস্তোনিয়ায় বাল্টিক সাগর ও রিগা উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত সারেমা ও হিউমা দ্বীপের মধ্যবর্তী অংশে বরফের স্তর এতটাই শক্ত হয়েছে যে, সেখানে অনায়াসেই চলছে যানবাহন।

 

গত রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি)  আনুষ্ঠানিকভাবে এই পথটি খুলে দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা ফেরির বিকল্প হিসেবে এই বরফপথ ব্যবহার করছেন। টানা কয়েক সপ্তাহ তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকায় ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল, যা এই আইস রোড তৈরির পথ প্রশস্ত করেছে।

 

দ্বীপবাসীদের জন্য এ পথ কেবল রোমাঞ্চকর নয়, বরং জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশ। ৯ হাজার বাসিন্দার হিউমা দ্বীপ থেকে স্কুল, কেনাকাটা কিংবা এক কাপ কফির জন্য মানুষকে পাশের সারেমা দ্বীপে যেতে হয়, যেখানে প্রায় ৩১ হাজার মানুষের বসবাস। এমনকি এস্তোনিয়ার মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে হলেও হিউমার বাসিন্দাদের সারেমা হয়ে যেতে হয়। হিউমার মেয়র হারগো তাসুয়া এই উদ্যোগকে তাদের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় মানুষ গ্রীষ্মে সমুদ্রে সাঁতার কাটে আর শীতে বরফের ওপর দিয়ে হেঁটে বা গাড়ি চালিয়ে যাতায়াত করে; এটি তাদের রক্তে মিশে আছে।

 

তবে সমুদ্রের ওপর এই অস্থায়ী সড়ক তৈরি ও ব্যবহার মোটেও সহজ নয়। কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের প্রতি ১০০ মিটার পরপর বরফের পুরুত্ব পরিমাপ করতে হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, নিরাপদ চলাচলের জন্য বরফের পুরুত্ব অন্তত ২৪ সেন্টিমিটার বা সাড়ে ৯ ইঞ্চি হওয়া বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া এই পথে সর্বোচ্চ আড়াই টন ওজনের যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে গতিসীমা ও সিটবেল্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও। 

 

আইস রোডে ক্ষতিকর কম্পন এড়াতে চালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গাড়ির গতি হয় ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারের নিচে রাখতে, অথবা ৪০ থেকে ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে বজায় রাখতে। এর মাঝামাঝি বা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে বরফে ফাটল ধরে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এছাড়া সিটবেল্ট ব্যবহার করতে না করা হয়েছে যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীরা দ্রুত যানবাহন ত্যাগ করতে পারে।

 

 তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান 

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন