অর্থনীতি

এস আলমের মামলা লড়তে ঘণ্টায় সরকারের ব্যয় হবে ১২৫০ ডলার!

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৮ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল আলম (এস আলম) ও তাঁর পরিবারের করা মামলার বিরুদ্ধে লড়তে ব্রিটিশ একটি ল ফার্ম নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। এই আইনি লড়াইয়ে সংশ্লিষ্ট ল ফার্মকে ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে।

আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে ল ফার্ম নিয়োগ এবং অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরবিট্রেশন মামলা নং- আইসিএসআইডি (কেস নম্বর-এআরবি/২৫/৫২) পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক ল ফার্ম নিয়োগ ও আইনি সেবা কেনার একটি প্রস্তাব বৈঠকে আইসিএসআইডি আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে এস আলম পরিবারের দায়ের করা মামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সম্প্রতি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ ল ফার্ম ‘হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপি’-কে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, এই ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানটিকে আইনি সেবার বিনিময়ে প্রতি ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫০ ডলার ফি প্রদান করতে হবে।

 

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, লন্ডনে পাচার করা অর্থের বিষয়ে এস আলম গ্রুপ বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটসে (আইসিএসআইডি) একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। সরকার এই জটিল আইনি প্রক্রিয়ার জবাব দিতে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় বড় অঙ্কের ব্যয়ভার বহন করে দক্ষ আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত কোনো দেশের সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা দিলে আইসিএসআইডি সালিসি করে থাকে, যার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

 

গত বছরের অক্টোবরে এস আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা ওয়াশিংটনে অবস্থিত এই আন্তর্জাতিক সংস্থায় মামলাটি দায়ের করেন। তাদের অভিযোগে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগে তাদের সম্পদ জব্দ ও বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় তাদের শত শত কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এস আলম পরিবারের দাবি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং উদ্দেশ্যমূলক তদন্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির লঙ্ঘন করছে।

 

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে কঠোর অবস্থান নেয়। সরকারের শ্বেতপত্র অনুযায়ী দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে যার মধ্যে এস আলম পরিবার একাই প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ ও ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশে সরিয়ে নেওয়া এই বিপুল অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়ায় এখন আন্তর্জাতিক আদালতেই ফয়সালা হবে।
 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন