ওমানের একটি প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যের কাছে আটকে পড়া একটি তেলের ট্যাংকার থেকে অপরিশোধিত তেল লিক হয়ে প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার (৩৯০ বর্গকিলোমিটার) এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) ওমান সরকারের পক্ষ থেকে পরিবেশগত বিপর্যয়ের এই তথ্য জানানো হয়েছে। ‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ নামের এই ট্যাংকারটিতে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল রাশিয়ান তেল ছিল, যা এশিয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
গত ৮ জুন ইয়েমেনের উপকূলে ট্যাংকারটি প্রথমবারের মতো সমস্যার সম্মুখীন হয়। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রাথমিক মূল্যায়নে ট্যাংকারটিতে কোনো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ বা গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওমান জানিয়েছে, তারা হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের কাছে এই তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক গত বছর এক রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে এই দ্বীপপুঞ্জের চারপাশের এলাকাটিকে একটি প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করেন। এলাকাটি আরব সাগরের হাম্পব্যাক তিমি এবং সোকোত্রা করমোরেন্ট পাখির অন্যতম আবাসস্থল। ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেলের এই বিশাল আস্তরণটি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর-পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি উপকূল থেকে আনুমানিক মাত্র সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। রয়টার্সের স্যাটেলাইট চিত্র এবং বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণেও গত মাসের শেষে আটকে পড়া ২৭৪ মিটার (৯০০ ফুট) দীর্ঘ এই ট্যাংকার থেকে তেল ছড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি করছে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, 'ক্যারোলিন বেজেঙ্গি' ট্যাংকারটি গত এপ্রিলে রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগরের নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে তেল বোঝাই করে এবং মে মাসের শেষে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে। ২০০১ সালে নির্মিত এই ট্যাংকারটি রাশিয়ার ব্যবহৃত পুরোনো তেলের ট্যাংকারের তথাকথিত 'শ্যাডো ফ্লিট' বা 'ছায়া নৌবহর'-এর অংশ। পশ্চিমা বিমা কভারেজ ছাড়াই আসল মালিকানা গোপন রাখতে এসব জাহাজ বিভিন্ন দেশের পতাকা ব্যবহার করে চলাচল করে। ট্যাংকারটি সাধারণ ডেটাবেসে ক্যামেরুনের পতাকাবাহী হিসেবে নিবন্ধিত থাকলেও গত জুন মাসে ক্যামেরুনের জাহাজ নিবন্ধন তালিকা থেকে বাতিল হওয়া ৩৯টি জাহাজের মধ্যে এটিও ছিল। বর্তমানে ট্যাংকারটির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং সুইজারল্যান্ডের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/ এসভিএন