মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘পুরো সভ্যতাকে ধ্বংসের’ হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি সব ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ট্রাম্পের দেওয়া চূড়ান্ত আল্টিমেটাম বা সময়সীমা শেষ হতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকতেই মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনটি সামনেে এল।
কূটনৈতিক টানাপড়েনের সমান্তরালে তেহরান, কোম, ইসফাহান, খোররামাবাদ এবং শিরাজসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে মঙ্গলবার রাতভর ব্যাপক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরানের অন্তত ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, ২ পক্ষের মাঝে সরাসরি কূটনীতি বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো আজ রাতে আর কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই এবং প্রচলিত পন্থায় কোনো সমাধানে আসা এখন প্রায় অসম্ভব।
গত সপ্তাহে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় চালু হওয়া একটি গোপন চ্যানেলের মাধ্যমে কাতার থেকে এলএনজিবাহী দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছিল। যুদ্ধের চরম উত্তেজনার মাঝেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ব্যবহারিক যোগাযোগের একমাত্র সূত্র ছিল চ্যানেলটি। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের নমনীয় হওয়ার সীমা ছিল এটুকুই। বর্তমানে যেকোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার যে সামান্য সুযোগ ছিল, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে তেহরান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আলোচনার পথ পরিহার করা একটি পরিষ্কার সামরিক বার্তা। এর মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা বোমা হামলার মুখে কোনো আলোচনায় বসবে না কিংবা বন্দুকের নলের মুখে কোনো শর্ত মেনে নেবে না। এর ফলে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার মাধ্যমে যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা চলছিল, তা এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বর্তমানে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে মূলত রণক্ষেত্রের সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আল্টিমেটামের জেরেই মূলত ইরান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও সরাসরি আলোচনা বন্ধ, তবে পরোক্ষ যোগাযোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। মধ্যপ্রাচ্যের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের একতরফা দাবির প্রতি তেহরানের চরম অসম্মতি ও কঠোর অবস্থান প্রকাশ করা।
তথ্যসূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
ডিবিসি/এএমটি