আন্তর্জাতিক

ওয়াশিংটনে লেবানন-ইসরায়েল কূটনৈতিকদের আলোচনা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দীর্ঘ কয়েক দশকের বৈরিতা কাটিয়ে এবং এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আবহে প্রথমবারের মতো সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনায় বসেছে লেবানন ও ইসরায়েল।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে এই ঐতিহাসিক বৈঠক শুরু হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই আলোচনাকে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ট্রাম্প প্রশাসন এই আলোচনা সহজতর করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। তবে তিনি বাস্তবতাকে তুলে ধরে বলেন, “আমরা কয়েক দশকের ইতিহাস এবং জটিলতার বিরুদ্ধে কাজ করছি, যা খুব দ্রুত সমাধান হওয়ার নয়। তবে আমরা এমন একটি কাঠামোর দিকে এগিয়ে যেতে পারি যা ইতিবাচক ও স্থায়ী কিছু বয়ে আনবে, যাতে লেবাননের মানুষ তাদের প্রাপ্য ভবিষ্যৎ পায় এবং ইসরায়েলিরা নির্ভয়ে বসবাস করতে পারে।”


আলোচনা শুরু হলেও এর তীব্র বিরোধিতা করছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির একজন উর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্মকর্তা সোমবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই আলোচনায় কোনো চুক্তি হলেও তারা তা মেনে চলবে না। উল্লেখ্য, এই আলোচনায় হিজবুল্লাহর কোনো প্রতিনিধি অংশ নেয়নি। উল্টো আলোচনা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে গোষ্ঠীটি।


১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই দেশ দুটির মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং তারা কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধের সূত্রপাত হয় গত ২ মার্চ, যখন হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা শুরু করে। এর কয়েকদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হিজবুল্লাহর প্রধান মিত্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল।


আলোচনা যখন ওয়াশিংটনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে চলছে, সীমান্তে তখন লাশের সারি আর ধ্বংসস্তূপ। সাম্প্রতিক কিছু চিত্র পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, গত ১১ এপ্রিল লেবাননের সিদন শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১৩ জন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন। মঙ্গলবার জানাজায় নিজের বাবার কফিনের পাশে ৮ বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদের কান্না উপস্থিত সবাইকে শোকাতুর করে তোলে। গত রবিবার উত্তর ইসরায়েল থেকে দেখা গেছে, ইসরায়েলি বুলডোজারগুলো দক্ষিণ লেবাননের বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।


লেবানন থেকে ছোঁড়া রকেটের আঘাতে উত্তর ইসরায়েলের নাহারিয়া শহরে শিশুদের খেলার মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের আগুনে দুই দেশের সাধারণ মানুষই চরম ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে।


দক্ষিণ লেবাননের আকাশে এখনও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে কূটনৈতিক টেবিলের আলোচনার চেয়ে সীমান্তের কামানের গর্জন এখনও অনেক বেশি শক্তিশালী।


সূত্র: এপি

 

ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন