কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি ভাড়া বাসার বাথরুম থেকে সাদিয়া জান্নাত (২২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী মোহাম্মদ সোহেল পলাতক রয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার নিরিবিলি আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত সাদিয়া জান্নাত নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুইত্যাখালী গ্রামের মোহাম্মদ সোহেলের স্ত্রী এবং একই এলাকার মৃত নুরুল হোসেনের পুত্রবধূ। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে ওই দম্পতি চকরিয়া পৌরসভার নিরিবিলি আবাসিক এলাকায় চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিবারের লোকজন ঝুলন্ত অবস্থা থেকে গৃহবধূর মরদেহ নিচে নামায়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি নিছক আত্মহত্যা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সাদিয়ার চাচা নাজমুল হাসান জানান, সাড়ে ৫ ফুটের একটি বাথরুম থেকে সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হলেও তার নিজের উচ্চতাও প্রায় সাড়ে ৫ ফুটের কাছাকাছি ছিল। যেভাবে মরদেহটি পাওয়া গেছে, তা আত্মহত্যার দৃশ্যের মতো বিশ্বাসযোগ্য নয়।
নিহতের মা জান্নাত আরা অভিযোগ করেন, তার জামাতা বেকার থাকায় সম্প্রতি বিদেশ যাওয়ার জন্য সাদিয়াকে বাবার বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন। সাদিয়া বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। টাকা না পাওয়ার ক্ষোভে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করছে।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি নিছক আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে।