কক্সবাজারে টানা আট দিনের ভারী বৃষ্টি কিছুটা কমলেও প্লাবিত এলাকার পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এর মধ্যে পাহাড়ধস ও বন্যার পানিতে ডুবে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ৪ জুলাই থেকে টানা বর্ষণে পাহাড়ধস ও ঢলের পানিতে ভেসে জেলায়, রোহিঙ্গাসহ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার শহরের পূর্ব কলাতলীর ঝিরিঝিরি পাড়ায় পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে রোজিনা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হন। তিনি আব্দুল মজিদের স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী। এ ঘটনায় তার স্বামী আব্দুল মজিদ (৩৭) আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা বলেন, রাতে খাবারের প্রস্তুতির সময় রোজিনা রান্নাঘর থেকে খাবারের পাতিল আনতে গেলে আকস্মিক পাহাড়ধসে রান্নাঘরের ওপর মাটি ধসে পড়ে। এতে তিনি মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক ছৈয়দ মো. মোরশেদ হোসাইন বলেন, খবর পাওয়ার পর দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে উদ্ধার করার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছিল।
এদিকে শনিবার রাতে পেকুয়া উপজেলার বলিরপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মুশফিকুর রহিম (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতের খাবারের সময় মা-বাবার অগোচরে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির সামনে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায় শিশুটি। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করলে স্থানীয়রা মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খোঁজাখালী জলদাসপাড়ায় শনিবার বিকেলে বন্যার পানির স্রোতে ভেসে যায় সজীব জলদাস (১২)। নিখোঁজের পর ফায়ার সার্ভিস, ডুবুরি দল ও স্বজনদের তল্লাশির একপর্যায়ে রবিবার বিকেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ডিবিসি/ এসএফএল