কক্সবাজারে টানা ভারি বর্ষণের ফলে আবারও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদরের দরিয়ানগরে পাহাড় ধসে মাটিচাপায় নাছিমা আকতার লিমা (২৭) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত দুই দিনে কক্সবাজারে পাহাড় ধসে ৮ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ১১ জনের প্রাণহানি ঘটল।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মোহাম্মদ ইউনুছ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে সদরের দরিয়ানগরের বড়ছড়াপাড়ায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুপুরের খাবার শেষে স্বামী জসিম উদ্দিন ও স্ত্রী লিমা ঘরের ভেতর বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ বাড়ির পেছনের পাহাড় থেকে একটি বড় গাছসহ মাটির বিশাল অংশ তাদের ঘরের ওপর ধসে পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত মাটি সরিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক লিমাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত স্বামী জসিম উদ্দিনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য সোমবার দিনব্যাপী নানাভাবে প্রচার ও মাইকিং করা হয়েছিল। নিহত লিমার পরিবারসহ ওই এলাকার বাসিন্দাদের বারবার সরে যেতে বলা হলেও তারা তা শোনেননি। তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে এখন হয়তো বলপ্রয়োগ বা আইন প্রয়োগ করতে হবে।’
ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজার স্টেশনের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, সোমবার বিকেলে নিহত লিমার পরিবারটিকে ডেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা ঘর ছাড়েননি। মঙ্গলবারও বিভিন্ন এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সতর্কতামূলক মাইকিং অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজারসহ পুরো উপকূলীয় এলাকায় টানা বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, সোমবার কক্সবাজারে ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ৯ ঘণ্টায় মোট ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার বৃষ্টির মূল কেন্দ্র বা হটস্পট হচ্ছে চট্টগ্রাম। তবে কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, চকরিয়া এবং অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায়ও ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আরও রয়েছে।
মঙ্গলবারের এই ঘটনার আগে, সোমবার পাহাড় ধসে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জন এবং কক্সবাজার শহর ও পেকুয়ায় আরও ২ জন নিহত হন। মঙ্গলবারের একজনসহ পাহাড় ধসে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ১১ জনে। এছাড়া অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গা শিশুসহ আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ডিবিসি/এমএনকে