কক্সবাজার ভ্রমণে এসে কলাতলী এলাকার ‘আল্-গণি’ নামের একটি রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে ফুড পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হয়েছেন রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অন্তত ৩০ জন শিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী। শুক্রবার (১৫ মে) রাতের খাবার খাওয়ার পর তারা বমি, ডায়রিয়া ও পেটব্যথাসহ নানা জটিলতায় পড়েন।
শনিবার ভোররাতে তাদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদিকে, পর্যটক অসুস্থ হওয়ার খবরে ওই রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
জানা গেছে, দুই দিনের শিক্ষা সফরে গত ১৪ মে রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ১৩০ জন শিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী কক্সবাজারে আসেন। তারা কলাতলীর সি-মুন রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তাদের মধ্যে ৩০ জনের একটি দল পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আল্-গণি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খেতে যান। সেখানে নান ও কোরাল মাছের বার-বি-কিউসহ কয়েক পদের খাবার খেয়ে হোটেলে ফেরার কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই তাদের শারীরিক অসুস্থতা শুরু হয়।
পরিস্থিতির অবনতি হলে শনিবার ভোররাতে অসুস্থ ৩০ জনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭ নারীসহ ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া হোটেলেও আরও অন্তত ৫০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তানভী জান্নাত জানান, রোগীদের বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়াসহ নানা উপসর্গ ছিল, যা সম্পূর্ণ ফুড পয়জনিংয়ের লক্ষণ। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর শনিবার দুপুরে ওই পর্যটকরা ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রেস্তোরাঁটির অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণেই তারা অসুস্থ হয়েছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে আল্-গণি রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ রুবেল প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে গোপনে ধারণ করা এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, অসুস্থ হওয়া পর্যটকরা তাদের রেস্তোরাঁয় আসার আগে বিভিন্ন জায়গায় খাবার খেয়েছেন এবং রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে কাঁকড়াসহ সামুদ্রিক মাছ খেয়েছেন। মূলত সেই কারণেই তারা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন।
এদিকে, এই ঘটনার খবর পেয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে আল্-গণি রেস্তোরাঁটিতে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ডিবিসি/পিআরএএন